ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক প্রস্তুতি, বাড়ছে সেনা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ মোড় নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে আলজাজিরা ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে।
নতুন করে মোতায়েনের মধ্যে রয়েছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন উভচর নৌবহর। থিওডোর রুজভেল্ট গত রোববার সান দিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। পরদিন মাকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও যাত্রা শুরু করে। এ ইউনিটে দুই হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের হিসাবে, নতুন এই মোতায়েনের ফলে নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের কাছাকাছি এলাকায় তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং দুটি উভচর অবতরণকারী নৌবহর অবস্থান করতে পারে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত সামরিক বিকল্প তৈরি হবে।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অবস্থান করছে। নতুন বাহিনী যুক্ত হলে অঞ্চলটিতে মার্কিন নৌবাহিনী ও মেরিন সেনার উপস্থিতি ২০ হাজারের বেশি হতে পারে। সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ৬০ হাজার ছাড়াতে পারে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এ সামরিক তৎপরতা এমন সময়ে বাড়ানো হলো, যখন ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চলছে। ইরান সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রস্তাবটির সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়ও যুক্ত ছিলো।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে আবারও হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে নতুন সেনা ও রণতরী মোতায়েনের উদ্দেশ্য সরাসরি হামলা চালানোর প্রস্তুতি, নাকি সামরিক চাপ বাড়িয়ে কূটনৈতিক দরকষাকষিতে সুবিধা নেয়া—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইরানও সম্ভাব্য বড় ধরনের মার্কিন হামলার জবাব দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, ইরানের সামরিক কমান্ডাররা সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছেন। মার্কিন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহযোগিতা করা দেশগুলোর স্থাপনাও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রাখা হতে পারে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে উপসাগরীয় মিত্রদের সুরক্ষায়ও যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। সৌদি আরব ও কাতারের তেল ও গ্যাস স্থাপনা রক্ষায় অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে মিত্রদের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী, অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার সেনা এবং আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। তবে এ মোতায়েন সরাসরি নতুন করে বড় যুদ্ধ শুরুর পূর্বাভাস কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। একই সময়ে সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক তৎপরতা—দুই পথেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চাপ বাড়ছে।
সবার দেশ/কেএম




























