ধূমপান করতে হাত কাঁপছিলো, লজ্জা লাগছিলো: বিদ্যা
রজনীকান্তের সঙ্গে প্রথম দিনের শুটিংয়ে অস্বস্তি; ‘জেলার ২’-এর দৃশ্য করতে গিয়ে নিকোটিনের প্রভাব অনুভব করেছিলেন অভিনেত্রী।
সুপারস্টার রজনীকান্তের সঙ্গে প্রথম দিনের শুটিং। তার ওপর এমন একটি দৃশ্য, যেখানে সহ-অভিনেতার মুখের দিকে ধোঁয়া ছাড়তে হবে। সব মিলিয়ে কিছুটা অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালানকে। ‘জেলার ২’ সিনেমার একটি ধূমপানের দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে তার হাত কাঁপতে শুরু করে। পরে অভিনেত্রী জানান, রজনীকান্তের সামনে অভিনয়ের নার্ভাসনেস নয়, বরং নিকোটিনের প্রভাবই তাকে বেশি বিব্রত করেছিলো।
পরিচালক নেলসন দিলীপকুমারের ‘জেলার ২’ সিনেমার মাধ্যমে তামিল চলচ্চিত্রে অভিষেক হতে যাচ্ছে বিদ্যা বালানের। ছবিতে রজনীকান্তের বিপরীতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। সিনেমাটির ট্রেলারে নীল শাড়ি, ছোট চুল ও হাতে সিগারেট নিয়ে তার উপস্থিতি ইতিমধ্যে দর্শকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি করেছে।
সম্প্রতি নিউজ১৮-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সিনেমাটির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বিদ্যা। সেখানে তিনি জানান, ধূমপানের দৃশ্যটি প্রথমে যতটা সহজ মনে করেছিলেন, বাস্তবে তা ততটা সহজ ছিলো না।
‘ভেবেছিলাম, ধূমপান করতে জানি’
বিদ্যা বালান জানান, তিনি ভেবেছিলেন ধূমপানের দৃশ্যটি অনায়াসেই করতে পারবেন। কিন্তু শুটিং শুরু হওয়ার পর নিজের শারীরিক প্রতিক্রিয়ায় নিজেই অবাক হয়ে যান।
অভিনেত্রীর ভাষ্য,
‘জেলার ২’-এর সেটে আমার মনে হয় নিকোটিনের প্রভাব অনুভব করেছিলাম। ভেবেছিলাম, আমি ধূমপান করতে জানি। সেটে গিয়ে ধূমপান করবো—ব্যাপারটা এমনই সহজ হবে!
কিন্তু দৃশ্য ধারণের সময় তার হাত কাঁপতে শুরু করে। এতে বিব্রত হয়ে পড়েন তিনি। বিদ্যা বলেন, হাত কাঁপতে শুরু করার পর আমি বিব্রত হয়ে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, আজই কি এমনটা হতে হলো?
শুটিংয়ের সময় উপস্থিত অনেকেই ধারণা করেছিলেন, রজনীকান্তের মতো তারকার সঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে বিদ্যা হয়তো নার্ভাস হয়ে পড়েছেন। তবে অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুরুতে তিনি বেশ উৎসাহী ছিলেন। হাত কাঁপতে শুরু করার পরই অস্বস্তি তৈরি হয়।
রজনীকান্তের আন্তরিকতায় স্বস্তি
শুটিংয়ের সে অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মধ্যেও রজনীকান্তের আচরণ তাকে স্বস্তি দিয়েছিলো বলে জানান বিদ্যা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রজনীকান্ত তার প্রতি আন্তরিক ছিলেন এবং প্রতিদিন খোঁজ নিতেন, তিনি ঠিক আছেন কি না।
পরিচালক নেলসন দিলীপকুমারও তাকে অতিরিক্ত চাপ না নিতে বলেছিলেন। কারণ, কোনও দৃশ্য নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করলে সেটি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বিদ্যার এ অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, পর্দায় একটি দৃশ্য স্বাভাবিক ও সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলতে অভিনয়শিল্পীদের কখনও কখনও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। দর্শকের কাছে কয়েক মুহূর্তের দৃশ্য মনে হলেও সেটি ধারণের পেছনে থাকতে পারে নানা ধরনের প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ।
পর্দায় নারীদের ধূমপান: কী বললেন বিদ্যা?
সাক্ষাৎকারে সিনেমায় নারীদের ধূমপান দেখানোর বিষয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন বিদ্যা বালান। তার মতে, একসময় সমাজে নারীদের ধূমপানকে সহজভাবে গ্রহণ করা হতো না। তাই সিনেমায় কোনও নারী চরিত্রকে বিদ্রোহী, স্বাধীনচেতা কিংবা প্রচলিত সামাজিক নিয়মের তোয়াক্কা না করা মানুষ হিসেবে তুলে ধরতে ধূমপানের দৃশ্য ব্যবহার করা হতো।
তবে তার মতে, সব ক্ষেত্রে এ উপস্থাপন কার্যকর হয়নি। অর্থাৎ, শুধু ধূমপানের মাধ্যমে কোনও নারী চরিত্রের স্বাধীনচেতা বা বিদ্রোহী মানসিকতা প্রকাশ করা সব সময় যথাযথ হয় না।
বিদ্যার ধারণা, বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে ধূমপানকে আগের মতো আকর্ষণীয় মনে হওয়ার প্রবণতা কমেছে। বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে ধূমপানকে ‘কুল’ বা আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে দেখার প্রবণতা কমেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে নারীদের ধূমপান নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি কতটা বদলেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন অভিনেত্রী।
‘দ্য ডার্টি পিকচার’-এর অভিজ্ঞতাও এসেছিল আলোচনায়
এর আগে ‘দ্য ডার্টি পিকচার’ সিনেমায় দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী সিল্ক স্মিতার চরিত্রে অভিনয় করার সময়ও ধূমপানের দৃশ্য নিয়ে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন বিদ্যা বালান। চরিত্রটিকে বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলতে তাকে ধূমপানের দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়েছিলো।
বিদ্যা জানিয়েছিলেন, সে সিনেমায় অভিনয়ের পর কিছুদিন তার ধূমপানের অভ্যাস তৈরি হয়েছিলো। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি সে অভ্যাস ছেড়ে দেন।
‘জেলার ২’-এর শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা আবারও সামনে এনেছে অভিনয়শিল্পীদের চরিত্রের প্রয়োজনে নানা ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার বিষয়টি। একই সঙ্গে সিনেমায় ধূমপানের উপস্থাপন এবং নারী চরিত্রকে প্রকাশের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রজনীকান্তের সঙ্গে প্রথম দিনের শুটিংয়ে বিদ্যা বালানের হাত কাঁপার ঘটনা হয়তো পর্দার বাইরের একটি ছোট অভিজ্ঞতা। কিন্তু তার বক্তব্যে উঠে এসেছে অভিনয়ের বাস্তব চ্যালেঞ্জ, সহ-অভিনেতার সহযোগিতা এবং সিনেমায় ধূমপানের সামাজিক উপস্থাপন নিয়ে তার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি।
সবার দেশ/এমকেজে




























