কার্যালয় ছাড়ার আলটিমেটাম শিক্ষার্থীদের
চুয়েটে ভিসিকে ভেতরে রেখে ভবনে তালা, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য ভবনের ফটকে আবারও তালা ঝুলিয়ে দেয়ার পাশাপাশি ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার খবর পাওয়া গেছে। উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার সকালে নিয়োগের প্রায় ২০ দিন পর উপাচার্য ভবনের ফটকে ঝোলানো তালা ভেঙে নিজের দফতরে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তার এ পদক্ষেপের প্রতিবাদে ভবনের নিচে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে তারা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং উপাচার্যকে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন।
দুপুরে উপাচার্য ভবনের সামনে বিক্ষোভ
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের ‘আমাদের দাবি, আমাদের দাবি, মানতে হবে, মানতে হবে’ এবং ‘প্রত্যাখ্যান-প্রত্যাখ্যান, নতুন ভিসি প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে আসার খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। তারা দুপুর ১২টার মধ্যে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে তার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আলটিমেটাম দেন।
নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে উপাচার্য ভবনের ফটকে আবারও তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
নিয়োগের বিরোধিতায় অচলাবস্থা
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। নতুন উপাচার্যের নিয়োগের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকেই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।
একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও কর্মবিরতি পালন করছেন বলে জানা গেছে। আন্দোলনের কারণে টানা ২০ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
আন্দোলনের মধ্যে এত দিন ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি নবনিযুক্ত উপাচার্য। তবে সোমবার সকালে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজের দফতরে গেলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শিক্ষা কার্যক্রম চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
উপাচার্যকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা, ভবনে পুনরায় তালা দেয়া এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় চুয়েটের চলমান অচলাবস্থা আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীরা নিয়োগ বাতিলের দাবিতে অনড়, অন্যদিকে নতুন উপাচার্য দপ্তরে প্রবেশ করে দায়িত্ব পালনের অবস্থান নিয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষা কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের নতুন কর্মসূচি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া এবং সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের ওপর এখন পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করছে।
তবে উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা, ভবন থেকে বের হওয়ার সুযোগ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
সবার দেশ/এমকেজে




























