ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ১২ সাবেক উপদেষ্টার নিন্দা
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ উপদেষ্টা। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার, হয়রানি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এক যৌথ বিবৃতিতে সাবেক উপদেষ্টারা বলেছেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো কিংবা ব্যক্তিগত হুমকির মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা থেকে সূচিত পরিবর্তনের অঙ্গীকার নস্যাৎ করা যাবে না। তরুণদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যে সংস্কার ও মর্যাদার প্রত্যাশা তৈরি করেছেন, অপপ্রচারের মাধ্যমে তা মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লবি দিয়ে যাওয়ার সময় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন ব্যক্তি কটূক্তি করেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। এ ঘটনার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হয়রানি, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাবেক উপদেষ্টারা।
বিবৃতিতে তারা বলেন, দেশ যখন গভীর সংকটের মুখে ছিলো, তখন অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপর্যয়, দুর্নীতি, কর্তৃত্ববাদী শাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো বলে উল্লেখ করেন তারা।
সাবেক উপদেষ্টাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধমূলক চর্চার অবসান ঘটানো হয়েছিলো। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, স্বৈরাচারী শাসনামলের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিলো।
তবে বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক অপতৎপরতায় যুক্ত ব্যক্তি ও স্বার্থান্বেষী মহল অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে তাকে শারীরিকভাবে হুমকি দেয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন সাবেক উপদেষ্টারা। তাদের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যাচার, অনলাইন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত হুমকি কোনো কিছু দিয়েই পরিবর্তনের অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত করা যাবে না। তরুণদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ সংস্কার ও মর্যাদার যে ঐতিহাসিক প্রত্যাশা তৈরি করেছেন, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার সমর্থকদের প্রচেষ্টা কিংবা অপপ্রচারের মাধ্যমে তা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিক্ষাবিদ সি আর আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদিলুর রহমান খান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন এবং ফারুক ই আজম বীর প্রতীক।
এ ছাড়া বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ইউবিনিগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার, সমাজবিজ্ঞানী ও ব্রতীর প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান নির্বাহী শারমীন সোনিয়া মুরশিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বিবৃতিতে সাবেক উপদেষ্টারা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে হয়রানি ও অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে উত্থাপিত সংস্কার, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অঙ্গীকার অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সবার দেশ/কেএম




























