বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান
পাখি আমদানির আড়ালে শত কোটি টাকা পাচার
পাখি আমদানির আড়ালে শত শত কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর আগে অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য যাচাইয়ে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে আমদানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ কার্যালয়ে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পাখি আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করেন দুদকের কর্মকর্তারা।
সংগৃহীত নথির মধ্যে রয়েছে আমদানিকারকদের অতীতে আমদানি করা পাখির সংখ্যা, পাখি পরিদর্শনের প্রতিবেদন, আমদানিকারকদের দেয়া অনাপত্তিপত্র (এনওসি) এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কাগজপত্র।
মো. আকতারুল ইসলাম জানান, কিছু অসাধু ব্যক্তি পাখি আমদানির আড়ালে শত শত কোটি টাকা পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এখন অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
এদিকে বন অধিদফতরের পদায়ন ও বদলিকে কেন্দ্র করে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও তদন্ত করছে দুদক। এ বিষয়ে সংস্থাটির এক অভিযানে বিভিন্ন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে।
দুদকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বছরের জন্য প্রথম শ্রেণির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা পদে পদায়নের ক্ষেত্রে ৫০ লাখ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ৩০ লাখ টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণির পদে ২০ লাখ টাকা নেয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানের তথ্য অনুযায়ী, বন অধিদপ্তরের তৎকালীন প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছিলো বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় প্রায় দেড় বছর আগে অনুসন্ধান শুরু হলেও তা এখনও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।
তবে পাখি আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার এবং বন অধিদফতরে পদায়ন-বদলিতে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন। এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্তভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সবার দেশ/কেএম




























