Sobar Desh | সবার দেশ মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:৩০, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আপডেট: ২১:৩৪, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঐতিহ্যবাহি মণিহার সিনেমা হল বন্ধের পথে 

ঐতিহ্যবাহি মণিহার সিনেমা হল বন্ধের পথে 
ছবি: সবার দেশ

এশিয়ার এক সময়  দ্বিতীয় বৃহত্তম সিনেমা হল হিসাবে খ্যাত মণিহার—আজ সে দিনগুলোকে শুধু স্মৃতিতে ধারণ করতে হলো। এক সময় সিনেমাপ্রেমীদের ভিড় সর্বদা লক্ষ্য করত এ হলের পথে। কিন্তু এখন শুধু ঈদে দুইবার দর্শক আসে; অন্য সময় মুখোশধারী খালি আসনই সাক্ষী দিচ্ছে শিকড়হীন সময়ের।

হল মালিক জিয়াউল ইসলাম মিঠু বলেন,এখন টলিউড অভিনেতা জিতের ‘অভিমান’ ছবিটি চলছে। এর আগে তিনবার চালিয়েছি, এখন চারবার। কিন্তু দর্শক সমাগম নেই বললেই চলে। ছবিটি আজ অনলাইন বা মোবাইলে সার্চ দিলেই পাওয়া যায়—সিনেমা হলে আসার প্রয়োজন কম।

মণিহারের বন্ধ হওয়ার কারণগুলো শুধু দর্শকসংখ্যার হ্রাসেই সীমাবদ্ধ নয়। ঢালিউডে নতুন ছবি না আসায় হল সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। মিঠু জানান, ঈদ মৌসুম ছাড়া হল এখন নিজের খরচ তুলতে পারছে না। কমপ্লেক্সের দোকান ও হোটেল থেকে যে আয় হয়, তা দিয়েই রক্ষণাবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।

একসময় ১৩ শতাধিক সিনেমা হল ছিলো। এখন কমতে কমতে ৭০–৭৫টি হলে ঠেকেছে। অতিসম্প্রতি আরও কয়েকটি বন্ধ হয়ে গেছে। মণিহারও শিগগিরই বন্ধ হওয়ার পথে। যদি শুধু সিনেমা হল হতো, এতদিনে বন্ধ হয়ে যেতো। আমাদের আশেপাশে কিছু দোকান আছে বলেই টিকে ছিলাম।

নতুন ছবি না থাকা আর আর্ট ফিল্মের সঙ্কট আরও চাপ বাড়িয়েছে। মিঠু বলেন, যত ভালো ছবি পাবো, হল তত ভালো চলবে। ঈদের পর তিনটি ছবি পেলাম। এরপর থেকে আর কোনো ছবি নেই। এ অবস্থায় হলে হল চালানো সম্ভব নয়।

মনিহার সিনেমা হলে ছবি দেখতে আসা দর্শক  মো.সালাউদ্দিন বলেন, নতুন নতুন ছবি তৈরি না হলে আমরা হলে আসবো না। কারণ দর্শক সব সময় নতুন ছবি দেখে। পুরাতন ছবির কোন চাহিদা নাই আমাদের। 
এদেশের নতুন ছবি তৈরীর জন্য  একান্ত প্রয়োজন,দর্শকদের জন্য। 

ঢালিউডের দৈন্যকাল, নতুন বিদেশি ছবি আমদানি বন্ধ, এবং দেশের প্রোডাকশন না হওয়া—এ তিনটি মিলিত কারণে মণিহারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। মিঠু বলেন, সিনেমা হল বাঁচাতে হলে বেশি ভালো ছবি বানাতে হবে। আগে সপ্তাহে দুটি ছবি পেতাম, এখন মাসে দু’টি পাওয়াও কষ্টকর। বিদেশি ছবি আমদানি বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ।

১৯৮৩ সালের ৮ ডিসেম্বর যশোরের সিনেমা ইতিহাসে জনি সিনেমা দিয়ে  প্রথমবার পথচলা শুরু করা হয়।  মণিহার হলের মোট আসন সংখ্যা ১,৪০০। কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান এর তত্ত্বাবধানে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে নির্মাণ ও সাজসজ্জা সম্পন্ন হয়েছিলো। আজ সেই প্রাচীন বিশাল হলের শূন্য আসনগুলো যেন অতীতের গৌরব ও মধুর স্মৃতিকে চুপচাপ সংরক্ষণ করছে।

মণিহার শুধু একটি হল নয়—এটি যশোরের সিনেমা সংস্কৃতির স্মৃতি, যেখানে প্রতিটি আসন, প্রতিটি স্ক্রিনে বেজে উঠতো মানুষ ও গল্পের মিলন। আর এখন সে ইতিহাসের প্রতি চুপচাপ শ্রদ্ধা জানিয়ে, বন্ধ হওয়ার দিনটির দিকে এগোচ্ছে মণিহার।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গিয়েছিলো আওয়ামী লীগ: ড. মঈন খান
বিএনপি নেতার জুয়ার আসরের ছবি ভাইরাল
জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আটক ১৫ নেতাকর্মী
যুদ্ধ শেষ করতে চাইছেন ট্রাম্প, অনড় অবস্থানে ইরান
সৌদিতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশির মৃত্যু
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সবাই গুপ্ত জামায়াত: হারুনুর রশিদ
বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গুর দাপট, মৃত্যুর খাতা শুরু
খান জাহান আলীর মাজারের দীঘিতে কুমিরের পেটে শিশু
১০ জনের বাংলাদেশকে হারাতে পারলো না পাকিস্তান
ঈদের সিনেমার আয়-ব্যয়: মাল্টিপ্লেক্সে শীর্ষে ‘রকস্টার’
বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ আর নেই
ইসলামী ব্যাংকের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ
কুয়াকাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় পর্যটক নিহত, আহত ৩
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ৭
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ
পিরোজপুরে গর্ত খুঁড়তে গিয়ে মাটি ধসে ২ শ্রমিকের মৃত্যু
দর্শনা সীমান্তে ‘পুশইন’, নারী ও শিশুসহ আটক ১০
লক্ষ্মীপুরে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা
প্রেমের টানে টাঙ্গাইলে চীনা স্কুলশিক্ষক