মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর মুকুট জোহেইরির মাথায়
১১১ দেশের সুন্দরীদের পেছনে ফেলে মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর মুকুট জিতে নিলেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। ভিয়েতনামের নিয়া ট্রাং শহরে জমকালো গ্র্যান্ড ফাইনালে বিশ্বসুন্দরীর খেতাব অর্জন করেন তিনি।
বিশ্বমঞ্চে সেরার মুকুট জয়ের আগে নিজ দেশেও নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছিলেন জোহেইরি মোলা। মিস ওয়ার্ল্ড ডমিনিকান রিপাবলিক ২০২৫-এর মুকুট জিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ পান তিনি। এবার বিশ্বের ১১১ প্রতিযোগীর সঙ্গে লড়াই করে সে সাফল্যকে নিয়ে গেলেন আরও বড় উচ্চতায়।
তবে জোহেইরির পরিচয় শুধু সৌন্দর্য আর গ্ল্যামারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মডেলিংয়ের পাশাপাশি তিনি শিক্ষক, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী হিসেবেও কাজ করছেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও তরুণদের পাশে দাঁড়াতে ‘ভয়েস অব টুমোরো’ নামে একটি উদ্যোগ পরিচালনা করেন এ সুন্দরী।
জোহেইরির এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও তরুণদের ইংরেজি শেখানো, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা। সৌন্দর্যের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় এ তরুণী তাই বিচারকদের নজর কাড়তে সক্ষম হন।
গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রথম রানার আপ হয়েছেন স্পেনের এলিসাবেথ রেইনেস। দ্বিতীয় রানার আপের মুকুট উঠেছে মালয়েশিয়ার তানুসিয়া চেট্টির মাথায়।
যেভাবে বেছে নেয়া হলো বিশ্বসুন্দরী
মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল ছিলো একাধিক ধাপের উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতা। শুরুতেই ঘোষণা করা হয় সেরা ৪০ প্রতিযোগীর নাম। সেখান থেকে বাছাই করা হয় সেরা ২০ জনকে। এরপর প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে পৌঁছায় সেরা ১২ এবং সেরা ৬-এ।
শেষ ছয় প্রতিযোগীকে নিয়ে চলে একাধিক পর্ব। সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব, উপস্থিত বুদ্ধি ও বিভিন্ন বিষয়ে তাদের দক্ষতা যাচাই করেন বিচারকেরা। শেষপর্বে বিচারকদের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় প্রতিযোগীদের। সবশেষে বিজয়ী হিসেবে জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেসের নাম ঘোষণা করা হয়।
৭৫ বছরের ঐতিহ্য
১৯৫১ সালে যুক্তরাজ্যে এরিক মর্লের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা। দীর্ঘ ৭৫ বছর ধরে আয়োজিত হয়ে আসা এ প্রতিযোগিতা বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতাগুলোর একটি।
প্রতিবছর বিভিন্ন ধাপ ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগীদের যোগ্যতা যাচাই করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ের নানা চ্যালেঞ্জ, রুদ্ধদ্বার সাক্ষাৎকার এবং মঞ্চের বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিযোগীদের সৌন্দর্যের পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক ভূমিকার বিষয়গুলোও মূল্যায়ন করা হয়।
এবারের মিস ওয়ার্ল্ড আয়োজন বসে ভিয়েতনামে। এ আসরে প্রথমবারের মতো ফ্রেঞ্চ গায়ানা, ইরিত্রিয়া, মোজাম্বিক, পাকিস্তান ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তবে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান ইকুয়েডরের সামান্থা কুয়েনেদিত, আর্মেনিয়ার মনিকা হারুতজুনজান এবং টোগোর নাদিরাতু আফোলাবি।
চার মহাদেশে ভাগ করা হয়েছিলো প্রতিযোগীদের
এবারের আসরে মোট ১১১ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তাদের চারটি মহাদেশীয় অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিলো—আফ্রিকা, আমেরিকা ও ক্যারিবীয়, ইউরোপ এবং এশিয়া ও ওশেনিয়া।
বাংলাদেশ থেকেও এ বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করেন সামানজার সাঈদ। ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ পর্বে নিজ মহাদেশের সেরা ছয়ে জায়গা করে নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত গ্র্যান্ড ফাইনালের সেরা ৪০-এ জায়গা করে নিতে পারেননি বাংলাদেশের এ প্রতিযোগী।
সবশেষে অবশ্য মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর আলো ঝলমলে মঞ্চে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠলেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। সৌন্দর্যের মুকুটের পাশাপাশি সামাজিক কাজের স্বীকৃতিও যেনো তার এ জয়কে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
সবার দেশ/কেএম




























