যুদ্ধের দামামা: সতর্কবার্তা খলিলজাদের
পাকিস্তান–আফগানিস্তান সংঘাতে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পাল্টাপাল্টি হামলাকে ঘিরে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সীমান্তজুড়ে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলার খবরের মধ্যেই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য যুদ্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। জবাবে আফগানিস্তানও আরও কঠোর পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।
এ প্রেক্ষাপটে আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি জালমে খলিলজাদ পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে শান্তি পুনঃস্থাপন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে খলিলজাদ বলেন, পাকিস্তান যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে তা তালেবানদের ঘোষিত ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই হয়েছে। তবে এ সংঘাতের জেরে নিরীহ আফগান ও পাকিস্তানি নাগরিকরা আহত বা নিহত হচ্ছেন—যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, এ সংঘাত বন্ধে সামরিক পথ নয়, কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র কার্যকর বিকল্প। দুই দেশের মধ্যে এমন একটি চুক্তি হওয়া উচিত, যাতে কেউই তাদের ভূখণ্ড অন্য দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না দেয়। তার মতে, এ ধরনের চুক্তির বাস্তবায়ন তৃতীয় পক্ষ—যেমন তুরস্ক—এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছর খলিলজাদ যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে আফগানিস্তান সফর করেন এবং তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তার এ মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে আনছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্ত সংঘাত যদি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে তা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এখন দেখার বিষয়, কূটনৈতিক উদ্যোগ আগে এগোয়, নাকি গোলাবারুদের ভাষাই প্রাধান্য পায়।
সবার দেশ/কেএম




























