ট্যাঙ্কার বিমানে ছিল না প্যারাসুট বা ইজেকশন সিট
ইরাকে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানের ‘চাঞ্চল্যকর’ তথ্য
পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানে ক্রুদের জীবন বাঁচানোর জন্য কোনও প্যারাসুট বা ইজেকশন সিট ছিলো না। এ কারণে দুর্ঘটনার সময় বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্যের কেউই বেরিয়ে আসতে পারেননি এবং সবাই নিহত হয়েছেন। মার্কিন বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে CNN।
বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল বোয়িং কেসি-১৩৫ (KC-135) স্ট্রাটোট্যাঙ্কার মডেলের একটি বিশালাকৃতির ট্যাঙ্কার বিমান। এ ধরনের বিমান মাঝ আকাশে যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানকে জ্বালানি সরবরাহ করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
মার্কিন বিমান বাহিনীর ওই কর্মকর্তা জানান, কার্গো বা মালবাহী বিমানের মতোই এ ট্যাঙ্কার বিমানগুলোতে সাধারণত মাঝ আকাশে জরুরি অবস্থায় বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা থাকে না। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে ক্রুদের বাঁচার সুযোগ খুবই সীমিত হয়ে পড়ে।
কেনো থাকে না প্যারাসুট বা ইজেকশন সিট
পেন্টাগনের সামরিক কৌশল অনুযায়ী, এ ধরনের ট্যাঙ্কার বিমানগুলোকে সাধারণত সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে রাখা হয়। এগুলো নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। এ কারণেই যুদ্ধবিমানের মতো ইজেকশন সিট বা প্যারাসুট এখানে ব্যবহার করা হয় না।
কর্মকর্তারা জানান, মাঝ আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনা ঘটলে ক্রুদের প্রধান দায়িত্ব থাকে বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে যতটা সম্ভব নিরাপদে অবতরণ করার চেষ্টা করা। তবে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় সে সুযোগও পাওয়া যায়নি।

রহস্য ঘেরা দুর্ঘটনা
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাঝ আকাশে অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের পরই ট্যাঙ্কার বিমানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে একটি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং তাতে থাকা ছয়জন ক্রুর সবাই নিহত হন।
আরেকটি ট্যাঙ্কার বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। তবে সেটি নিরাপদে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয় Ben Gurion Airport-এ, যা অবস্থিত তেল আবিব-এ।
ঘটনার পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে দুর্ঘটনায় ছয়জন ক্রু সদস্যের সবাই মারা গেছেন। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় শত্রুপক্ষ বা অন্য কোনও বাহিনীর গুলিবর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।
এদিকে ইরানের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ বিমানটি ভূপাতিত করার দাবি করেছে। তবে তাদের এ দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীও এ দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

প্রকাশিত কিছু ছবিতে দেখা গেছে বিধ্বস্ত কেসি-১৩৫ (KC-135) স্ট্রাটোট্যাঙ্কার বিমানের লেজের অংশ (টেইল ফিন) বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, যা মাঝ আকাশে সংঘর্ষের তত্ত্বকে আরও জোরালো করছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এ ঘটনাকে মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন এবং নিহত ক্রু সদস্যদের ‘আমেরিকান হিরো’ বলে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
সূত্র: CNN
সবার দেশ/কেএম




























