মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব, জর্ডানে ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা হামলার দাবি করেছে তেহরান। জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডানের কিং হোসেন ও আল-আজরাক সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। ইরানের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ‘আগ্রাসনের’ জবাব এবং ‘আগ্রাসী শক্তির জন্য শাস্তি’ হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানি বাহিনীর দাবি, হামলায় মার্কিন বাহিনীর প্রযুক্তিগত ও কারিগরি অবকাঠামোর পাশাপাশি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।
তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা
এর আগে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আইআরজিসি ওই এলাকায় রকেট ও সমুদ্র মাইন মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
মার্কিন বাহিনীর অভিযানে লারাক দ্বীপের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা
মার্কিন হামলার পরপরই ইরানের পাল্টা হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে আন্তর্জাতিক তেলবাজার ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি সত্য হলে তা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ভৌগোলিক পরিসরে নিয়ে যেতে পারে। এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা আম্মানের পক্ষ থেকে ইরানের দাবির বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের দিকেও নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
সবার দেশ/এমকেজে




























