Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৫৫, ২৪ আগস্ট ২০২৬

১৮০ দিনের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে: নাহিদ ইসলাম

১৮০ দিনের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে: নাহিদ ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে চরম অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পনার কারণে জনভোগান্তি ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকারের ব্যর্থতা স্বীকার না করে ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (২৩ আগষ্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সেখানে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ শরিক দলগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ বাস্তবায়নসহ দেশের চলমান রাজনৈতিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার তাদের ব্যর্থতা স্বীকার না করে ১৮০ দিনের একটি সাফল্যমণ্ডিত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। অথচ অতীতে আওয়ামী লীগকে যে ধরনের প্রতারণার রাজনীতি করতে দেখা গেছে, এখন বিএনপি সরকারও একই ধরনের রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, সরকারের প্রতি জনআস্থা একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অন্তর্বর্তী সরকার কিংবা জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, দেশে লোডশেডিং ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি ও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বেড়েছে গ্যাস ও সিলিন্ডারের দাম। জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, একদিকে ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজির ভোগান্তি রয়েছে, অন্যদিকে তারা প্রয়োজনীয় গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। পাশাপাশি সার সংকট তৈরি হওয়ায় কৃষকরাও সমস্যায় পড়েছেন। সরকারের ১৮০ দিনের অব্যবস্থাপনার সরাসরি প্রভাব জনগণকে ভোগ করতে হচ্ছে।

সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের ব্যর্থতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিলো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বিরোধী দল ও জনগণের সহযোগিতা চাওয়া উচিত ছিলো বলে মনে করেন নাহিদ।

তিনি বলেন, তা না করে সরকার বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেয়ার মধ্য দিয়েই সরকার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে।

তারেক রহমান দেশে ফিরে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলে দেশকে স্থিতিশীল করার কথা বলেছিলেন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূলত অব্যবস্থাপনায় পরিণত হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে সরকার গঠন করার কারণেই ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করতে হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আরও পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকার বিরোধী দলের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে পরিকল্পনা চাইলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন নাহিদ। তিনি বলেন,

জ্বালানি সংকট নিয়ে গঠিত কমিটিতে বিরোধী দল প্রস্তাব দিয়েছিলো। কিন্তু সে কমিটিকেও কার্যকর হতে দেয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে কমিটির প্রতিবেদন নিয়েও কোনও কার্যকর আলোচনা হয়নি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকারকে অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে কাজ শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব পক্ষকে নিয়ে একটি জাতীয় নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নাহিদ বলেন, তারা আশা করেছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আসবে। কারণ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছেন বলে তারা মনে করেন। সরকারের উচিত মন্ত্রণালয়টি পুনর্গঠন করা। প্রয়োজনে বিরোধী দল সরকারকে নীতিগতভাবে সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের পররাষ্ট্রনীতি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসহীন। ভারত সফর করা হবে কি না, সে বিষয়েও সরকার জনগণকে স্পষ্ট কোনও বার্তা দিতে পারছে না।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে আওয়ামী লীগকে প্রেস ব্রিফিং করার সুযোগ দেয়ার বিষয়ে ভারত সরকারকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, আওয়ামী লীগকে দিল্লিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দিয়ে একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন।

নাহিদ বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য কোনও দেশের সঙ্গে বৈরিতা চায় না। তারা মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক চায়। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার গঙ্গার পানি বণ্টন, অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইনসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে নতুন সম্পর্কের কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিচার এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দেশের জন্য কল্যাণকর হবে বলে ১১ দল মনে করে না।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, সরকার এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। কিন্তু ছয় মাস পার হলেও সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আবার সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং সরকার নজিরবিহীনভাবে দলীয়করণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জুলাই সনদ, গণভোট এবং বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা—কোনোটিই সরকার যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না বলেও দাবি করেন নাহিদ ইসলাম। জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে সংসদের বাইরে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের প্রতি দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে ১১ দল গণতান্ত্রিকভাবে রাজপথে তার জবাব দেবে। এ লক্ষ্যে জনগণের কাছে গিয়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ করা হচ্ছে।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক কর্মসূচি। কর্মসূচিতে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধা এলে তারা গণতান্ত্রিকভাবে তা মোকাবিলা করে কর্মসূচি এগিয়ে নেবেন।

ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, লংমার্চের প্রধান দাবি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। পাশাপাশি জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধানও তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

মার্কিন প্রতিনিধিদল মোবাইলের আলোয় দেখলেন জুলাই জাদুঘর
সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
১৮০ দিনের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে: নাহিদ ইসলাম
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে নামলে শত্রু ভাববে ইরান
অর্থ কমিটির বৈঠক অকার্যকর করার অভিযোগ হাসনাতের
হরমুজে ভাঙলো মার্কিন শক্তির দম্ভ
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে খরচ
প্রতিশোধ নয়, আত্মসম্মানের লড়াই ছিলো: কামিন্স
মেঘনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে কুপিয়ে জখম
ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার
লংমার্চে বাধা এলে প্রতিহত করার ঘোষণা ১১ দলের
মাদক সেবন দেখে ফেলায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, আটক ২
টেস্টে ইতিহাসের সেরা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো জাপান, বহু হতাহতের আশঙ্কা
বঙ্গভবনে মির্জা ফখরুল, পিজিআরের গার্ড অব অনার
‘দুঃখ পেয়েছেন’ চুপ্পু, আমন্ত্রণ পাননি বঙ্গভবনে
আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
দেশে হবে পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষামন্ত্রী