Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৪৮, ২৯ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ০০:৪৮, ২৯ আগস্ট ২০২৬

ইরান যুদ্ধের ৬ বড় বৈশ্বিক পরিণতি

ইরান যুদ্ধের ৬ বড় বৈশ্বিক পরিণতি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সংঘাতের কোনো স্পষ্ট সমাপ্তি দেখা যাচ্ছে না। একসময় যে যুদ্ধকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ছোট্ট অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, সেটিই এখন তার প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

ইরান এখনও আত্মসমর্পণ করেনি। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যুদ্ধ কীভাবে এবং কখন শেষ হবে, সে বিষয়েও এখনো পরিষ্কার কোনও রূপরেখা নেই।

এ পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রেখে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথেই এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মিত্রদের জানিয়েছেন, ‘আপাতত’ ইরানের ওপর নতুন করে হামলার সম্ভাবনা কম।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে যুদ্ধের ছয় মাসে এর ছয়টি বড় প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। সেগুলো হলো—

১. ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস

ইরান যুদ্ধের প্রভাব মার্কিন রাজনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন হার ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৩ শতাংশে নেমেছে।

যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প রাজনৈতিক সমর্থন পেয়েছিলেন, সেটিও এখন চাপে পড়েছে। একই জরিপে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের পক্ষে সমর্থন পাওয়া গেছে মাত্র ৩১ শতাংশ।

আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ পরিস্থিতি রিপাবলিকান দলের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

২. বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা

ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ পরিবাহিত হয়।

যুদ্ধের কারণে এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমানো হয়েছে।

তবে যুদ্ধের কারণে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।

৩. ক্ষতিগ্রস্ত, কিন্তু পরাজিত নয় ইরান

ছয় মাসের যুদ্ধে ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু দেশটি পুরোপুরি সামরিক সক্ষমতা হারায়নি। এখনও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানোর সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।

এর পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ আরও বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সংকট ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলেছে।

যুদ্ধের ছয় মাস পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর তেহরানও প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো ইরানের অর্থনীতির ‘মূল চালিকাশক্তি’কে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদাররা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

৪. আরও অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধের প্রভাব শুধু ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। উপসাগরীয় দেশগুলোতেও এর নিরাপত্তাগত প্রভাব পড়েছে। ইরানের পাল্টা হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পরিবহন ও বীমা ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডমিঙ্গেস বলেন, সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও তা অনুভূত হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ীভাবে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এ জলপথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

৫. অনিশ্চয়তায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতেও যুদ্ধের বড় প্রভাব পড়েছে। হামলায় দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীও নিহত হয়েছেন।

তবে এসব স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকরা এখনও নিয়মিতভাবে ফিরতে না পারায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ফলে দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কর্মসূচি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

৬. চাপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা

দীর্ঘস্থায়ী এ যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপরও চাপ তৈরি করেছে। ছয় মাসের সংঘাতে মার্কিন বিমান, ড্রোন এবং বিপুল পরিমাণ নির্ভুল নিশানাভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে ইউরোপ এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সম্পদ সরিয়ে নিতে হয়েছে। এতে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ফলে ইরান যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের একটি সামরিক সংঘাত হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ইরানের অর্থনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং মার্কিন সামরিক কৌশলেও। ছয় মাস পরও যুদ্ধের সমাপ্তির স্পষ্ট পথ না থাকায় এসব প্রভাব আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

দেশে ফিরে নেপালে ভয়াবহ দুর্যোগের বর্ণনা দিলেন অপু বিশ্বাস
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫০ কিমি যানজট
গোসলে নেমে প্রাণ গেলো পাঁচ বোনের
ইরান যুদ্ধের ৬ বড় বৈশ্বিক পরিণতি
বিনা খরচে প্রথম বহরে মালয়েশিয়া যাবেন ১০ হাজার কর্মী
বাংলাদেশের ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নিয়ে নজর ভারতের
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তর না পেরে শাহবাগ-পল্টনের প্রসঙ্গ আনেন: সারজিস
দুমকিতে যুবদলের আনন্দ মিছিলে হামলা, আহত ৫
বাইকে নিথর তরুণী, জানালেন কী হয়েছিলো
নেপালে বন্যায় প্রাণহানি ৫৭৯, নিখোঁজ ২ হাজার
২০৩০ সালে অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ডকে ছাড়াবে বাংলাদেশ
২৫ টাকা ইউনিটের বিদ্যুতে মিলবে সাত সুবিধা
গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, সংসদে ৩ বিল
নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করেছি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মির্জা ফখরুলকে পুতিনের অভিনন্দন