বিমানে আটক, স্লোগানে সরব নেতারা
ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা বললেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) শীর্ষ নেতাদের আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের ভেতর থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় নেতাদের ‘ভারত মাতা কি জয়’ ও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে সিজিপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যন্তর মন্তরে সিপিআই(এম) নেতারাও আটক
যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর পর কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং সিপিআই(এম) নেতা এমএ বেবি, এমভি গোবিন্দন মাস্টার, কেকে শৈলজা ও বৃন্দা কারাটসহ দলটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি।
এ ছাড়া যন্তর মন্তরের আশপাশের এলাকায় কয়েকজন স্বাধীন সাংবাদিক ও আন্দোলনকারীকেও পুলিশ হেফাজতে নেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তবে এসব আটকের বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য এবং আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনের অভিযোগ
সিজিপি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরপরই তাদের নেতাদের আটক করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে এটি পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপ।
বিবৃতিতে নেতাদের আটকের ঘটনাকে চলাচলের স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে দলটি।
সংগঠনটির বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের নেতাদের আটকের ঘটনায় সে অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছে সিজিপি।
মোদি সরকারের সমালোচনায় কেজরিওয়াল
সিজিপি নেতাদের আটকের ঘটনায় সমালোচনা করেছেন আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া এক বার্তায় তিনি ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিকে জরুরি অবস্থার সময়ের চেয়েও খারাপ বলে মন্তব্য করেন।
কেজরিওয়ালের অভিযোগ, দেশে চরম একনায়কতান্ত্রিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজনৈতিক বিরোধিতা নিয়ে আতঙ্কিত। তার এ বক্তব্যে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন বিতর্ক
বিমানবন্দর থেকে রাজনৈতিক নেতাদের আটক এবং যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপ ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার পরিবর্তে অভিযোগ থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করা উচিত।
অন্যদিকে, আটকের পেছনে পুলিশের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে সামনে না আসায় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়।
আটক নেতাদের মুক্তি, বিক্ষোভের অনুমতি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের অধিকার নিয়ে পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
সবার দেশ/এমকেজে




























