জনস্বাস্থ্যের অগ্রদূত
মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
জাতীয় জীবনে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ মরণোত্তর পাচ্ছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও গণস্বাস্থ্য আন্দোলনের পথিকৃৎ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সরকারিভাবে প্রকাশিত স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় তার নাম ঘোষণা করা হয়। জনস্বাস্থ্য, গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়ন ও সামাজিক সেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হচ্ছে।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বিকল্প ও স্বল্পমূল্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তার প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র-এর মাধ্যমে গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওষুধ উৎপাদন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জনসচেতনতা কার্যক্রমে তার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পরও তিনি স্বাস্থ্যসেবা, ন্যায্য ওষুধনীতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সক্রিয় ছিলেন।
২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে দেশের চিকিৎসা অঙ্গন ও জনস্বাস্থ্য আন্দোলনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে তখন বিভিন্ন মহল থেকে মন্তব্য করা হয়।
প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে। এ বছরও সেই ধারাবাহিকতায় জনস্বাস্থ্যে বিশেষ অবদানের জন্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে মরণোত্তর এ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
সবার দেশ/এফও




























