তালিকায় সুবিধাভোগীদের নাম নিয়ে তোলপাড়
বিতর্কের মুখে পুলিশ পদক স্থগিত
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) প্রদান স্থগিত করেছে সরকার। চলতি বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পদকের জন্য ১০৯ জন কর্মকর্তা ও সদস্যকে মনোনীত করা হলেও শেষ মুহূর্তে তা আটকে দেয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পদকের তালিকায় বিতর্কিত এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উঠে আসায় সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আপত্তি দেখা দেয়। পরে বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় আসার পর পদক প্রদানের সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হয়নি। ফলে এ বিষয়ে কোনও প্রজ্ঞাপনও প্রকাশিত হয়নি।
শনিবার (৯ মে) রাতে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা জানান, রোববার পদক দেয়া হচ্ছে না। তবে পুরো বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, যারা পদকের জন্য বিবেচিত হয়েছেন, তাদের আরও গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। এতে কেউ তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন, আবার নতুন কেউ যুক্তও হতে পারেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশ সপ্তাহ শুরু হওয়ার পরও পদক স্থগিতের ঘটনা নজিরবিহীন। এ নিয়ে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সাধারণত সাহসিকতা, কর্মদক্ষতা ও জনসেবামূলক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সদস্যদের ‘বিপিএম’ ও ‘পিপিএম’ পদক দেয়া হয়। পুলিশ বাহিনীতে এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত। কর্মস্পৃহা বাড়ানো এবং ভালো কাজকে উৎসাহ দিতেই প্রতিবছর এ পদক প্রদান করা হয়।
তবে এবারের তালিকা প্রকাশের পর থেকেই অভিযোগ ওঠে, রাজনৈতিক বিবেচনা ও তদবিরের মাধ্যমে কিছু কর্মকর্তাকে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা অনেক পুলিশ সদস্যের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও প্রকৃত যোগ্যরা বঞ্চিত হয়েছেন।
এদিকে পদক স্থগিতের ঘটনায় প্রশাসনিক অঙ্গনেও নানা আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিতর্ক এড়াতে এবং গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতেই নতুন করে তালিকা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























