জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে ক্ষমতার পতন অনিবার্য: তথ্যমন্ত্রী
রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে যেকোনোওি সরকারের পরিণতি অতীতের পতিত স্বৈরাচারী শাসনের মতোই হতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, জনগণের চিন্তা-চেতনা ও আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে তা শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যায়।
তুরস্কের ইস্তাম্বুল-এ অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি, কূটনীতিক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যের শুরুতে তথ্যমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনা কেবল অতীতের গৌরব নয়, বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ করে ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ থেকে বর্তমান নেতৃত্বের অনেক কিছু শেখার রয়েছে। তিনি বলেন,
আমরা যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি, আমাদের অবশ্যই সে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ইতিহাসের এ শিক্ষা উপেক্ষা করলে একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
মন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রের মূল শক্তি জনগণ। তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, চাওয়া-পাওয়া এবং মানসিক অবস্থার প্রতিফলনই হওয়া উচিত নীতিনির্ধারণে। জনগণের বাইরে গিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত বা চিন্তা করলে তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না এবং শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলে।
তিনি বর্তমান সরকারকে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও দায়িত্বশীল, গণমুখী ও জবাবদিহিমূলকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে জনগণের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন সামিট (স্ট্র্যাটকম) ২০২৬’-এ অংশ নিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ইস্তাম্বুল পৌঁছান তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সম্মেলন ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম শেষে আগামী ৩০ মার্চ সকালে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























