Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৩১, ৩০ জুলাই ২০২৬

রয়টার্সের প্রতিবেদন

মার্কিন সেনাদের মোবাইল ভিডিও থেকে হামলার লক্ষ্য ঠিক করছে ইরান

মার্কিন সেনাদের মোবাইল ভিডিও থেকে হামলার লক্ষ্য ঠিক করছে ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইরান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ ও হামলার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করছে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।

রয়টার্সের হাতে আসা কুপারের একটি চিঠির অনুলিপিতে এ উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) লেখা ওই চিঠিতে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত সেনাদের মোবাইলে ধারণ করা ছবি, ভিডিও ও প্রতিক্রিয়া দেখে ইরান প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বুঝে ফেলছে তাদের হামলা কতটা সফল হয়েছে।

কুপারের ভাষ্য, উন্মুক্ত উৎসে (ওপেন সোর্স) প্রকাশিত এসব তথ্য শুধু মার্কিন সেনাদেরই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক মানুষের জীবনও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তাই তিনি সেনাদের অপারেশনাল নিরাপত্তা (অপসেক) আরও কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে কী ধরনের নতুন ব্যবস্থা নেয়া হবে, তা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থানরত কিছু মার্কিন সেনাকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হতে পারে। কারণ দেশটি ইরানের হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর একটি। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, শুধু জর্ডান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। যদিও এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স বলেন, অ্যাডমিরাল কুপারের বার্তার মূল উদ্দেশ্য ছিলো সেনাসদস্যদের অপারেশনাল নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও সচেতন করা। তিনি নিয়মিতই এ ধরনের নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

চিঠিতে একটি নির্দিষ্ট ঘটনারও উল্লেখ করেছেন কুপার। চলতি মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় মার্কিন সেনারা বাংকারে আশ্রয় নিচ্ছেন। ভিডিওটি এক সেনাসদস্যের মেটা স্মার্ট গ্লাস দিয়ে ধারণ করা হয়েছিলো এবং পরে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা হয়।

কুপারের মতে, এ ধরনের ভিডিও প্রকাশ না হলে ইরানের পক্ষে হামলার প্রকৃত ফলাফল মূল্যায়ন করা অনেক বেশি কঠিন হতো। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনী ইলেকট্রনিক জ্যামিংসহ নানা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ব্যবহার করে থাকে, যা হামলার প্রকৃত ফলাফল সম্পর্কে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে।

তিনি আরও বলেন, ইরান জানে তারা অস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, কিন্তু সেগুলো লক্ষ্যবস্তু থেকে ৫০ মিটার দূরে পড়েছে, খালি রানওয়েতে আঘাত করেছে নাকি জনাকীর্ণ কোনও স্থাপনায় লেগেছে—তা তারা নিশ্চিতভাবে জানে না। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশিত হলে সেটি ইরানের জন্য বিনা খরচে যুদ্ধের কার্যকারিতা মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করে দেয়। এমন তথ্য দ্রুত প্রকাশ পেলে ইরান আরও কার্যকর ও ভয়াবহ দ্বিতীয় দফার হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের পর থেকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জনমতেও যুদ্ধবিরোধী অবস্থান জোরালো হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি তিনজন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে মাত্র একজন এ যুদ্ধকে সমর্থন করছেন।

এদিকে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা যুদ্ধ-সংক্রান্ত আরও তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তারা বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির রাডার টাওয়ার, ব্যারাক ও বিমান হ্যাঙ্গারের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। পাশাপাশি যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন। সিএনএনের এক তদন্তে ওই হামলায় ১২০ শিক্ষার্থী ও ২৬ শিক্ষকসহ মোট ১৫৬ জন নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

মোবাইল ফোন ব্যবহারে সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত মার্কিন সেনাদের পরিবারগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশে মোতায়েন সেনাদের ব্যক্তিগত ফোন ব্যবহারের নিয়ম বাহিনীভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোথাও নির্দিষ্ট স্থানে ফোন জমা রাখতে হয়, আবার সংবেদনশীল অভিযানে সম্পূর্ণভাবে ফোন বহন নিষিদ্ধ থাকে।

মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, ফিটনেস অ্যাপসহ বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারীর অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করতে পারে, যা প্রতিপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য হয়ে উঠতে পারে। গত মে মাসেও রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিলো, স্মার্টফোন থেকে সংগৃহীত বাণিজ্যিক অবস্থান তথ্য ব্যবহার করে মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত ও নজরদারি করা হয়েছে।

অপারেশনাল নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রেখে পেন্টাগনও যুদ্ধসংক্রান্ত অনেক তথ্য প্রকাশে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ইরানের একাধিক হামলার দাবি কিংবা আহত সেনাদের বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে তারা প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পটিয়ায় নিষিদ্ধ জঙ্গি ছাত্রলীগের মুখোশধারীদের মিছিল
বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিলো মেয়ে
তারেক রহমানের সফর নিয়ে অধীর অপেক্ষায় ভারত: দীনেশ ত্রিবেদী
মেয়েকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে সালিশে বাবাকে ৩৩ বেত্রাঘাত
মার্কিন সেনাদের মোবাইল ভিডিও থেকে হামলার লক্ষ্য ঠিক করছে ইরান
নোয়াখালীতে নতুন গ্যাস কূপ, মিলতে পারে দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য স্বস্তি
এনসিপির বিক্ষোভে মুন্সিগঞ্জ ছাত্রদলের পানি বিতরণ
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক হবে সমতার ভিত্তিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছাত্রদলের সভাপতিসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা
বালুর ট্রাক দিয়ে এনসিপিকে আটকে রাখা যাবে না: আসিফ মাহমুদ
শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার
শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ গ্রেফতার
রাজধানীতে এনসিপির প্রতিবাদ বিক্ষোভ, বুধবার সারা দেশে কর্মসূচি
যশোরে এমপি গোলাম রসুলের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ
এক সুতোয় জড়িয়ে পড়ছে রাশিয়া-ইউক্রেন ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত