একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ
জিপিএ-৫ পেয়েও কলেজ পাননি ২২০৫ শিক্ষার্থী
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ হয়েছে। এতে জিপিএ-৫ পেয়েও কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হতে পারেননি ২ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে আবেদন করেও কোনো কলেজ বা মাদ্রাসায় আসন পাননি মোট ১৪ হাজার ৪১৫ জন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে একাদশ শ্রেণির ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হয়। এবার দেশের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী অনলাইনে আবেদন করেন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পছন্দক্রম, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল এবং নির্ধারিত আসনের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। ফলে জিপিএ-৫ পেলেই পছন্দের কলেজে ভর্তির নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
৪১৬ কলেজে আবেদন, বরাদ্দ নেই
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮ হাজার ১৮০টি। এর মধ্যে ১১টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী আবেদন করেননি।
অন্যদিকে ৪১৬টি কলেজে শিক্ষার্থীদের আবেদন থাকলেও কোনও শিক্ষার্থী বরাদ্দ পায়নি। এসব প্রতিষ্ঠানে আসন খালি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম ও অন্যান্য নির্ধারিত শর্তের কারণে প্রথম ধাপে সেখানে কোনও বরাদ্দ দেয়া হয়নি।
পছন্দের কলেজ না পেলে মাইগ্রেশনের সুযোগ
প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য পরবর্তী ধাপে মাইগ্রেশনের সুযোগ থাকছে। শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে।
এরপর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
প্রথম ধাপে কোও কলেজে নির্বাচিত না হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য পরবর্তী ধাপে আবেদন ও পছন্দক্রমের সুযোগ থাকবে। ফলে প্রথম ধাপে নাম না আসা শিক্ষার্থীদের এখনই হতাশ না হয়ে পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
পরীক্ষা ছাড়াই কলেজে ভর্তি
এবারও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয়নি। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম ও শিক্ষার্থীর পছন্দক্রম অনুসরণ করে কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়েছে।
একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দ করতে পেরেছেন। আবেদন করার পর পছন্দক্রম সংশোধনের সুযোগও দেয়া হয়েছিলো। গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দক্রম পরিবর্তন করতে পেরেছেন।
অনলাইন আবেদনের জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ২২০ টাকা ফি দিতে হয়েছে।
আসন প্রায় ২৫ লাখ
সারা দেশে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। বিপুলসংখ্যক আসনের বিপরীতে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নির্দিষ্ট গ্রুপে আসন পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে নামী ও চাহিদাসম্পন্ন কলেজগুলোতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অনেকে প্রথম পছন্দের প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাননি। এর ফলে জিপিএ-৫ পেয়েও ২ হাজার ২০৫ শিক্ষার্থী প্রথম ধাপে কোনও প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত না হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
অনুমোদন ছাড়া ভর্তি নয়
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোনও কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তি করতে বা শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র (টিসি) দিতে পারবে না।
এ ছাড়া অনুমোদনহীন কোনও শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। এমনকি সংশ্লিষ্ট কলেজের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি বা এমপিওভুক্তি বাতিলের মতো ব্যবস্থাও নেয়া হতে পারে বলে ভর্তি নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।
এসএসসিতে পাস করেছে ১১ লাখের বেশি
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় গত ১০ আগস্ট। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের পরই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়। আবেদন শেষে এবার প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হলো।
এখন জিপিএ-৫ পেয়েও প্রথম ধাপে নির্বাচিত না হওয়া ২ হাজার ২০৫ শিক্ষার্থীসহ কোনও প্রতিষ্ঠানে আসন না পাওয়া শিক্ষার্থীদের নজর থাকবে পরবর্তী ধাপের আবেদন ও মাইগ্রেশনের ফলের দিকে।
সবার দেশ/এমকেজে




























