নারী রেফারিংয়ে নজর কাড়ছেন জুলিয়ানা
ইতালিয়ান ফুটবলের নিচের সারির লিগে ম্যাচ পরিচালনা করে আলোচনায় উঠে এসেছেন তরুণী সহকারী রেফারি জুলিয়ানা ভিজিলে। মাঠে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় তার রয়েছে বড় অনুসারী গোষ্ঠী। ইন্সটাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি, যা ইতালির অনেক ফুটবল ক্লাবের অনুসারীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ইতালির চেজেনা শহরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা জুলিয়ানার। সেখানকার ভিনচেনজো মন্তি ক্লাসিক্যাল হাইস্কুলে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি ফুটবলের প্রতি তার আগ্রহ ক্রমেই গভীর হয়।
সপ্তাহের ব্যস্ততার পর সপ্তাহান্তে ফুটবল মাঠেই দেখা যায় ২৩ বছর বয়সী জুলিয়ানাকে। ইতালিয়ান ফুটবলের আঞ্চলিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ধীরে ধীরে ওপরে ওঠার সুযোগ পান তিনি। পরে দেশটির চতুর্থ স্তরের প্রতিযোগিতা সিরি ‘ডি’-তেও দায়িত্ব পালনের সুযোগ আসে তার।
জুলিয়ানার পরিচিতি অবশ্য শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তায় সীমাবদ্ধ নয়। ইতালির প্রভাবশালী ক্রীড়া দৈনিক লা গাজ্জেত্তা দেল্লা স্পোর্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঠে তার পারফরম্যান্সও নজর কেড়েছে। ইতালিয়ান রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের মূল্যায়নকারীরা গত কয়েক বছরে তার ম্যাচ পরিচালনায় নিয়মিত উচ্চ নম্বর দিয়েছেন।
মাঠে জুলিয়ানার উপস্থিতি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহও তৈরি হয়েছে। লা গাজ্জেত্তা দেল্লা স্পোর্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি যে ম্যাচগুলোতে দায়িত্ব পালন করেন, সেসব ম্যাচে সাধারণ সময়ের তুলনায় দর্শক উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। ফলে একজন সহকারী রেফারি হিসেবে তার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের জনপ্রিয়তাও ইতালিয়ান ফুটবলে আলাদা করে আলোচনায় এসেছে।
ফুটবলের বাইরে জুলিয়ানা মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেও কাজ করেন। তার ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ফুটবল মাঠের বিভিন্ন মুহূর্তের পাশাপাশি ভ্রমণ, ফ্যাশন ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা ছবি ও ভিডিও নিয়মিত প্রকাশ করেন। এসব কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার অনুসারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে জনপ্রিয়তা যতই বাড়ুক, জুলিয়ানার মূল লক্ষ্য ফুটবল মাঠেই। তার স্বপ্ন একদিন ইতালিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায় সিরি ‘এ’-তে রেফারিং করা। সে লক্ষ্যে মাঠের পারফরম্যান্স, ধারাবাহিকতা ও মূল্যায়নকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
আঞ্চলিক পর্যায় থেকে সিরি ‘ডি’-তে উঠে আসা জুলিয়ানার সামনে এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জ। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল জনপ্রিয়তার পাশাপাশি মাঠে নিজের দক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ধরে রাখতে পারলে ইতালিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পথও তার জন্য আরও উন্মুক্ত হতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























