Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:১৭, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘বেনজীর কোথায়?’—অবস্থান জানতে ইন্টারপোলে আবারও চিঠি

‘বেনজীর কোথায়?’—অবস্থান জানতে ইন্টারপোলে আবারও চিঠি
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থান জানতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে আবারও চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) থেকে ই-মেইলে এ চিঠি পাঠানো হয়।

পুলিশের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, সাবেক আইজিপির অবস্থান জানতে এনসিবির মাধ্যমে বুধবার ইন্টারপোলে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠির জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

কেনো আবার চিঠি পাঠানো হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ কেউ বলছে, সাবেক আইজিপি দুবাই ত্যাগ করেছেন। তাই আমরা বিষয়টি নিয়ে জানতে চেয়েছি।

গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছিলো দেশটির পুলিশ। এরপর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ। তবে গ্রেফতারের প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও তাকে দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি।

জুনে সংসদে ৩০০ বিধিতে দেয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ করা হবে। দ্রুত তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, বেনজীরকে গ্রেফতার করা বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি হবে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়—এমন বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি।

বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের পর তার নথিপত্র চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দেয় দুবাই পুলিশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং পুলিশের এনসিবি সমন্বয় করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেনজীরের বিরুদ্ধে যেসব মামলার কারণে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করেছিলো, সেসব মামলার প্রাথমিক নথিপত্র পর্যালোচনার পর ঢাকার সঙ্গে আবারও যোগাযোগ করে দুবাই পুলিশ। তাকে ফেরত পাঠানোর আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়ার জন্য আরও কিছু তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়। বাংলাদেশ থেকেও সেসব নথিপত্র পাঠানো হয়।

এরপর বেনজীরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছিলো। তবে এরই মধ্যে গত ২৭ জুলাই আরব আমিরাতের একটি আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বেনজীর আহমেদ ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট লুসিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। তবে তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের কাছে নিশ্চিত কোনও তথ্য নেই। এ কারণেই ইন্টারপোলের কাছে নতুন করে জানতে চাওয়া হয়েছে তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন।

ইন্টারপোলের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালনকারী এনসিবি শাখায় কাজের অভিজ্ঞতা থাকা কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দিবিনিময় চুক্তি রয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে এ ধরনের কোনও চুক্তি নেই।

তবে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও অতীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিভিন্ন মামলার আসামি বা বন্দিকে দেশে ফিরিয়ে আনার নজির রয়েছে। পারস্পরিক আইনি সহায়তা বা মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স (এমএলএ) ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

দুর্নীতি, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে কোন প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট অপরাধের উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, দুই দেশের আইনের সামঞ্জস্য, আদালতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন এবং কূটনৈতিক তৎপরতা।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলা করেছে দুদক। এর বাইরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাতেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য বাংলাদেশ পুলিশের মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হয়েছিলো। সে মামলার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ইন্টারপোলের সহায়তায় এর আগেও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে একাধিক আসামিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ৭ মে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই থেকে হত্যা মামলার আসামি আরিফ সরকারকে দেশে ফিরিয়ে আনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আরিফ সরকার নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ খান হত্যা মামলার আসামি। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একই মামলার আরেক আসামি মহসিন মিয়াকেও ইন্টারপোলের সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে কোনও আসামিকে গ্রেফতার করা গেলেও তাকে নিজ দেশে ফেরত আনা সবসময় সহজ হয় না। বিশেষ করে কোনও ব্যক্তি নিজের দেশের নাগরিকত্বের পাশাপাশি অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে কিংবা ভিন্ন দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বেনজীর আহমেদের একাধিক দেশের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও তার বিনিয়োগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব বিষয়ও তাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থান, বিদেশে তার নাগরিকত্ব বা বিনিয়োগ এবং তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ কিংবা বেনজীর আহমেদের পক্ষ থেকে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:

লেখকের ঋণ ১.২ বিলিয়ন ডলার, বই লিখেছেন ধনী হওয়ার উপায়!
এসআরবি প্রতিষ্ঠা নতুন মোড়কে র‍্যাবকে ফিরিয়ে আনা: নাহিদ ইসলাম
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি কোনও স্লোগান নয়, পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দ্রুত সংবিধান সংশোধন বিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের প্রত্যাশা অধরাই রইলো: টিআইবি
সেফটি ভালভের ত্রুটিতে অনিশ্চিত রূপপুরের বিদ্যুৎ
মন্ত্রী বললেন—‘হারপিক নিয়ে আসেন, আমি পরিষ্কার করে দিই’
‘বেনজীর কোথায়?’—অবস্থান জানতে ইন্টারপোলে আবারও চিঠি
গুমের বিরুদ্ধে আইন, নাকি আস্থার বিরুদ্ধে আপস?
মির্জা আব্বাসের কান্নাভেজা বক্তব্যে থমকে গেলো সংসদ
১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ, উদ্ধার ৮৭ শতাংশ
৫ মাস পর সংসদে মির্জা আব্বাস
এনআইডি নয়, জন্মেই ‘এক-আইডি’
উল্টো পথে মন্ত্রীর গাড়ি, পুলিশের দুই মামলা
বন্যায় বন্ধ নেপালের বিদ্যুৎ রফতানি, সংকটে বাংলাদেশ
প্রমাণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করুন: আসিফ মাহমুদ
নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২০৪
বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে আপত্তিকর ভিডিও, দুই শিক্ষক বরখাস্ত