Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৫৬, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এনআইডি নয়, জন্মেই ‘এক-আইডি’

জন্মের পরই একক ডিজিটাল পরিচয়। ১৮ বছর বয়সে আলাদা এনআইডির প্রয়োজন থাকবে না। স্বাস্থ্য-শিক্ষা-সরকারি সেবা এক পরিচয়েই

এনআইডি নয়, জন্মেই ‘এক-আইডি’
ছবি: সংগৃহীত

জন্মের পর আর আলাদা আলাদা পরিচয়ের বোঝা নয়। জন্মের মুহূর্ত থেকেই একজন নাগরিকের জন্য থাকবে একটি স্থায়ী ও স্বতন্ত্র ডিজিটাল পরিচয়। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন পরিচয়ভিত্তিক সেবাকে ধীরে ধীরে একটি ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

নতুন এ ব্যবস্থার নাম ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা ‘এক-আইডি’। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্মের পরই নাগরিককে দেয়া হবে এ একক পরিচয়। ১৮ বছর বয়সে গিয়ে আলাদাভাবে এনআইডি নেয়ার প্রয়োজন থাকবে না।

শুধু পরিচয় প্রমাণ নয়—স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সরকারি বিভিন্ন সেবা এবং ভবিষ্যতে ডিজিটাল লেনদেনেও এ পরিচয় ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (ডি-স্টার)’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুমোদনের জন্য এটি পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা।

জন্মেই পরিচয়, আজীবন একই

বর্তমান ব্যবস্থায় জন্মের পর শিশুর জন্মনিবন্ধন করা হয়। ১৮ বছর বয়সে গিয়ে নাগরিকের হাতে আসে জাতীয় পরিচয়পত্র। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, টিআইএনসহ নানা পরিচয়পত্র ও নম্বর ব্যবহার করতে হয়।

‘এক-আইডি’ চালু হলে এ বহুমাত্রিক পরিচয়ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।

একজন নাগরিকের জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি হবে, যা তার সারা জীবন বহাল থাকবে। সরকারি বিভিন্ন দফতরে সেবা নিতে গিয়ে একই ব্যক্তিগত তথ্য বারবার দেয়ার প্রয়োজনও কমে আসবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অনুমোদিত সংস্থাগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী একই সমন্বিত তথ্যভান্ডার থেকে নাগরিকের তথ্য যাচাই করতে পারবে।

এক কার্ডেই বহু সুবিধা

শুধু এনআইডির বিকল্প হিসেবে নয়, ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি সেবা ও পরিচয়পত্রকে ‘এক-আইডি’র সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির সুবিধা এক পরিচয়ের মাধ্যমে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে।

তবে কোন কোন কার্ড ও সেবা শেষ পর্যন্ত ‘এক-আইডি’র আওতায় আসবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

‘একজন নাগরিক, একটি ডিজিটাল পরিচয়, একটি ওয়ালেট’

নতুন ব্যবস্থার ধারণাটিকে তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ তুলে ধরেছেন—‘একজন নাগরিক, একটি ডিজিটাল পরিচয়, একটি ওয়ালেট’ হিসেবে।

অর্থাৎ একজন নাগরিকের থাকবে একটি পরিচয়, সেটিই হবে তার ডিজিটাল পরিচয়ের ভিত্তি। ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে নতুন পরিচয়পত্রে ঠিক কী কী তথ্য থাকবে, কীভাবে সেগুলো সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

১৮ কোটি নাগরিক, কার্ড হবে ২০ কোটি

প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য ‘এক-আইডি’ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণ করা হবে ২০ কোটি।

প্রতিটি পলিকার্বোনেট চিপ কার্ড তৈরি ও মুদ্রণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ মার্কিন ডলার বা প্রায় ২৪৬ টাকা। বিতরণ ও সরবরাহে আরও ১ ডলার বা প্রায় ১২৩ টাকা ব্যয়ের হিসাব রয়েছে।

অর্থাৎ একটি কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ, বিতরণ ও সরবরাহে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৩৬৯ টাকা।

প্রকল্প ব্যয় ৯,১৯৩ কোটি টাকা

‘এক-আইডি’ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে আসবে ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা।

প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ব্যয় হবে কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণ, নাগরিকদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ এবং কার্ড বিতরণে। এ খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

সুবিধার পাশাপাশি বড় প্রশ্ন নিরাপত্তা নিয়ে

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন সরকারি তথ্যভান্ডারের মধ্যে কার্যকর আন্তসংযোগ তৈরি করা গেলে নাগরিকদের একই তথ্য বারবার দেয়ার প্রয়োজন কমবে। এতে সরকারি সেবা গ্রহণে সময় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সেবাদান প্রক্রিয়াও দ্রুত ও কার্যকর হতে পারে।

তবে একজন নাগরিকের পরিচয়, বায়োমেট্রিক তথ্য ও বিভিন্ন সেবার তথ্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত হলে তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তথ্য ফাঁস, অপব্যবহার কিংবা অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ও কঠোর তথ্য সুরক্ষা কাঠামো নিশ্চিত করা না গেলে এ উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নতুন ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

পরিচয়ের নতুন যুগের শুরু?

জন্মনিবন্ধন থেকে এনআইডি, এনআইডি থেকে পাসপোর্ট—এভাবে একাধিক পরিচয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল বর্তমান ব্যবস্থাকে এক ছাতার নিচে আনার লক্ষ্য সরকারের।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে একজন নাগরিকের জন্ম থেকে আজীবন সরকারি পরিচয়ের মূল চাবিকাঠি হবে একটি ‘এক-আইডি’।

তবে প্রকল্পটি এখনও অনুমোদনের পর্যায়ে। ফলে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে এর কাঠামো, তথ্য সংরক্ষণ, বিভিন্ন সেবার সঙ্গে সংযোগ এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

অর্থাৎ সামনে আসছে এমন এক পরিচয়ব্যবস্থা—যেখানে নাগরিকের পরিচয় হবে এক, আর সে এক পরিচয়েই মিলবে রাষ্ট্রের বহু সেবা।

সবার দেশ/এমকেজে

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:

লেখকের ঋণ ১.২ বিলিয়ন ডলার, বই লিখেছেন ধনী হওয়ার উপায়!
এসআরবি প্রতিষ্ঠা নতুন মোড়কে র‍্যাবকে ফিরিয়ে আনা: নাহিদ ইসলাম
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি কোনও স্লোগান নয়, পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দ্রুত সংবিধান সংশোধন বিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের প্রত্যাশা অধরাই রইলো: টিআইবি
সেফটি ভালভের ত্রুটিতে অনিশ্চিত রূপপুরের বিদ্যুৎ
মন্ত্রী বললেন—‘হারপিক নিয়ে আসেন, আমি পরিষ্কার করে দিই’
‘বেনজীর কোথায়?’—অবস্থান জানতে ইন্টারপোলে আবারও চিঠি
গুমের বিরুদ্ধে আইন, নাকি আস্থার বিরুদ্ধে আপস?
মির্জা আব্বাসের কান্নাভেজা বক্তব্যে থমকে গেলো সংসদ
১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ, উদ্ধার ৮৭ শতাংশ
৫ মাস পর সংসদে মির্জা আব্বাস
এনআইডি নয়, জন্মেই ‘এক-আইডি’
উল্টো পথে মন্ত্রীর গাড়ি, পুলিশের দুই মামলা
বন্যায় বন্ধ নেপালের বিদ্যুৎ রফতানি, সংকটে বাংলাদেশ
প্রমাণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করুন: আসিফ মাহমুদ
নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২০৪
বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে আপত্তিকর ভিডিও, দুই শিক্ষক বরখাস্ত