Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৫০, ১০ জুন ২০২৬

সংসদে উত্তাপ তুললেন ডা. শফিকুর রহমান

ইসলামী ব্যাংক দখলকারী চক্রের নজরে—অভিযোগ বিরোধী দলীয় নেতার

ইসলামী ব্যাংক দখলকারী চক্রের নজরে—অভিযোগ বিরোধী দলীয় নেতার
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডকে ঘিরে আবারও ‘দখলকারী চক্র’ সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের তৃতীয় দিনে ৬৮ বিধিতে দেওয়া নোটিশ উত্থাপনকালে তিনি ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি দাবি করেন, দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক এবং রেমিটেন্স প্রবাহের অন্যতম প্রধান উৎস ইসলামী ব্যাংক একসময় স্থিতিশীল ও লাভজনক অবস্থানে ছিলো। ২০১৬ সালে ব্যাংকটি ৪৪৭ কোটি টাকার বেশি মুনাফা করে এবং খেলাপি ঋণের হার ৪ শতাংশের মধ্যে সীমিত ছিলো। তবে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শফিকুর রহমান সংসদে বলেন, পরবর্তী বছরগুলোতে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ৫১ শতাংশে পৌঁছায় এবং শেয়ারহোল্ডাররা কোনও লভ্যাংশ পাননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটি যখন ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে ফিরছিলো এবং মুনাফা ১০৮ কোটি থেকে ১৩৭ কোটিতে উন্নীত হয়েছিলো, তখন আবারও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, পরিচালনা পর্ষদে বিতর্কিত ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ সৃষ্টি করে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তার মতে, এসব পদক্ষেপ ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা ও গ্রাহক আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

লিখিত নোটিশে তিনি আরও দাবি করেন, ব্যাংকটিকে রাজনৈতিকভাবে ট্যাগ দিয়ে দখলের চেষ্টা চলছে। এক সময় যখন কথিত ‘জামায়াতপন্থী ব্যবস্থাপনা’ দায়িত্বে ছিলো, তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিলো বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে নতুন করে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে আস্থাহীনতা দেখা দিয়েছে বলে দাবি তার।

তিনি সংসদে উল্লেখ করেন, মাত্র একদিনেই গ্রাহকেরা প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার আমানত তুলে নিয়েছে—যা ব্যাংকিং খাতের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত হিসেবে দেখছেন তিনি।

দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় তিনি তিনটি দাবি উত্থাপন করেন—ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া, ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের ‘অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ’ বন্ধ করা এবং বিষয়টি জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সংসদে আলোচনার ব্যবস্থা করা।

স্পিকারের সময়সীমার কারণে পুরো বক্তব্য পাঠ করতে না পারলেও তার এ বক্তব্য সংসদে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয় বলে জানা গেছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

আওয়ামী প্রেতাত্মা হাসানুজ্জামানকে দুদকের মহাপরিচালক নিয়োগ
‘বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনে নজর রাখছে ভারত’
পিরোজপুরে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫
কাতার বিমানবন্দরে বিদেশিদের ভিড়, ছড়ালো দেশ ছাড়ার গুজব
আওয়ামী লীগকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম
কমার্স ব্যাংকের দুই পরিচালকের পদত্যাগ
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের
শিক্ষার্থীদের তালা ভেঙে অবরুদ্ধ ভিসিকে উদ্ধার করলো ছাত্রদল
পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা, নাগরিকদের ৫ নির্দেশনা ইরানের
চোখ বেঁধে জামায়াতের বিষয়ে প্রশ্ন করলা কেনো?: মেজর (অব.) আখতার
ধানমন্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট
শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে উত্তাল সীতাকুণ্ড, মহাসড়ক-রেললাইন অবরোধ
পুলিশকে পিটিয়ে জখম করলো আওয়ামী সন্ত্রাসীরা
মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ
জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা, আটক ৩০