গাজীপুরে পথসভায় জামায়াতের আমির
‘বিএনপি পানি খাবে, তবে ঘোলা করে’
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারকে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি পানি খাবে, কিন্তু ঘোলা করে খাবে।’
শনিবার সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের একটি পথসভায় বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় এ বাংলার মাটিতেই বাস্তবায়ন করা হবে। বিএনপি সরকারও সে রায় বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হবে। এ ক্ষেত্রে যত বিলম্ব বা নানা ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হোক না কেনো, শেষ পর্যন্ত জনগণের রায় কার্যকর করতেই হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন,
আমরা ১৮ কোটি মানুষের ন্যায্য দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। এ লংমার্চ কোনও ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে আমাদের এ কর্মসূচি।
জামায়াত আমির বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ নানা ধরনের সংকট ও ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন,
গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ বলেছিলেন। জনগণের দেয়া সে রায় সরকার অগ্রাহ্য করে তাদের অপমান করেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের সে ‘অপমানের প্রতিশোধ’ নিতেই তারা রাজপথে নেমেছেন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ জনগণের বিভিন্ন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
১১ দলীয় জোটের সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানি সংকট নিরসন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং দলীয়করণ বন্ধের দাবিও সামনে এসেছে।
এর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের কর্মসূচিতেও শফিকুর রহমান বলেছিলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা।
গাজীপুরের পথসভায় তিনি দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নকে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
সবার দেশ/এমকেজে




























