Sobar Desh | সবার দেশ নাদিয়া কিরণ

প্রকাশিত: ২২:২২, ১৭ জুন ২০২৬

আপডেট: ২২:৫৭, ১৭ জুন ২০২৬

ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান: স্বপ্ন, শিক্ষা-প্রযুক্তি ও নেতৃত্বের এক অনন্য অভিযাত্রা!

ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান: স্বপ্ন, শিক্ষা-প্রযুক্তি ও নেতৃত্বের এক অনন্য অভিযাত্রা!
ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। ছবি: সবার দেশ

বাংলাদেশের করপোরেট জগৎ, প্রযুক্তি খাত, শিক্ষা উন্নয়ন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার অঙ্গনে যেসব ব্যক্তিত্ব দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে অবদান রেখে চলেছেন, তাদের মধ্যে ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি একাধারে করপোরেট কৌশলবিদ, এঞ্জেল ইনভেস্টমেন্ট, প্রযুক্তি নেতা, সমাজসেবক এবং দক্ষতা ও কর্সংস্থান কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পেশাগত সাফল্য, মানবিক দায়বদ্ধতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের সমন্বয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলাদেশের অন্যতম সফল করপোরেট নেতাদের একজন হিসেবে।

মেঘনার মাটি থেকে বিশ্বমঞ্চে

১৯৬৯ সালের ১ জুন কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত ও মূল্যবোধসম্পন্ন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ড. মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। পিতা মরহুম আবদুল কুদ্দুস এবং মাতা জোহরা খাতুনের স্নেহ, আদর্শ ও শিক্ষায় বেড়ে ওঠেন তিনি। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অধ্যবসায়ী, দায়িত্বশীল এবং নেতৃত্বপ্রবণ।

গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠলেও তার চিন্তা ও স্বপ্ন কখনো সীমাবদ্ধ ছিলো না। সমাজ, শিক্ষা ও মানুষের উন্নয়ন নিয়ে তার কৌতূহল এবং দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি পরবর্তীকালে তাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্বের আসনে নিয়ে যায়।

শিক্ষা: জ্ঞান অর্জনের অবিরাম যাত্রা

ড. নুরুজ্জামানের শিক্ষা জীবন ছিল ধারাবাহিক সাফল্যে ভরপুর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব উপলব্ধি করে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস (এমআইএস) বিষয়ে এমবিএ সম্পন্ন করেন।

শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ এখানেই থেমে থাকেনি। উচ্চতর গবেষণার লক্ষ্যে তিনি টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিলো বাংলাদেশের নিম্নআয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর সামাজিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার সংযোগ কাঠামো। এ গবেষণা তার মানবিক দর্শন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ভাবনার প্রতিফলন।

করপোরেট নেতৃত্বের উজ্জ্বল অধ্যায়

পেশাগত জীবনের শুরু থেকেই ড. নুরুজ্জামান করপোরেট ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত পরিকল্পনায় অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন। দীর্ঘ ৩২ বছরের কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দিয়ে অর্জন করেছেন অসংখ্য সাফল্য।

বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল গ্রুপ সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের কৌশলগত নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি গ্রুপের সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তার নেতৃত্বে ড্যাফোডিল গ্রুপ শিক্ষা, প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল ব্যবসা খাতে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

একজন দক্ষ সিইও হিসেবে তিনি শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন না; বরং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ব্যবসা সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা প্রণয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের অগ্রদূত

বাংলাদেশে ডিজিটাল রূপান্তরের যাত্রায় ড. নুরুজ্জামান একজন পরিচিত মুখ। তিনি বিশ্বাস করেন প্রযুক্তি কেবল একটি ব্যবসায়িক উপকরণ নয়; বরং সামাজিক পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম।

তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা উন্নয়নে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।

তিনি ইন্টারন্যাশনাল সফটওয়্যার টেস্টিং কোয়ালিফিকেশনস বোর্ড (ISTQB)-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি এবং টেস্ট ম্যাচিউরিটি মডেল ইন্টিগ্রেশন (TMMi) ফাউন্ডেশনেরও বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার নেতৃত্বে প্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সফটওয়্যার সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

স্টার্টআপ ও অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টমেন্টে নতুন দিগন্ত

ড. নুরুজ্জামান শুধু করপোরেট প্রশাসক নন; তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ডেভেলপমেন্টের মেন্টরও।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য প্রযুক্তি খাতে বিপ্লব ঘটানো প্রতিষ্ঠান ডকটাইম লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সমাধান তৈরিতে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তিনি বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগে এঞ্জেল ইনভেস্টর এবং কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করছেন। তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বৈশ্বিক কর্মসংস্থান ও দক্ষ অভিবাসনের প্রবক্তা

বর্তমান বিশ্বে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বাস্তবতা উপলব্ধি করে ড. নুরুজ্জামান আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান ও দক্ষ অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সঠিক প্রশিক্ষণ, ভাষাগত দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গেলে তারা বিশ্ববাজারে আরও সফল হতে পারে।

তার পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে বহু তরুণ আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করছে এবং সরাসরি কর্মসংস্থান লাভ করছে।

বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে অভিজ্ঞতার আলো

ড. নুরুজ্জামান বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ সফর করেছেন। এসব সফরের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

এ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তাকে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছে। তিনি স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটিয়ে কার্যকর ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

যুব উন্নয়ন ও ক্রীড়া প্রশাসনে সম্পৃক্ততা

তরুণ সমাজের উন্নয়নকে তিনি জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম পূর্বশর্ত মনে করেন। এ বিশ্বাস থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া ও যুব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খেলাধুলার মাধ্যমে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ এবং সুস্থ জীবনধারা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

সমাজসেবার মানবিক অধ্যায়

করপোরেট সাফল্যের পাশাপাশি সমাজসেবাকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করেন।

এ চিন্তা থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘মেধালালন সার্কেল’। সংগঠনটি নিম্নআয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও শিক্ষাগত সহায়তা প্রদান করে তাদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করছে।

এছাড়া তিনি ‘আমরা মেঘনাবাসী’-এর প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিজ জন্মভূমির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনাকালে খাদ্য সহায়তা, মাদকবিরোধী কার্যক্রম, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিলো প্রশংসনীয়।

পারিবারিক জীবন

ব্যস্ত পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি পারিবারিক জীবনেও সমানভাবে দায়িত্বশীল। তার সহধর্মিণী ফারহা দিবা ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একজন সিনিয়র শিক্ষক। তাদের একমাত্র পুত্র আবরার ফাইয়াজ বর্তমানে কানাডায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণপূর্বক চাকরি করছেন।

পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ, শিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চা তার ব্যক্তিজীবনের অন্যতম ভিত্তি।

বাংলাদেশের এক বৈশ্বিক দূত

ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

করপোরেট সুশাসন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ বিকাশে তার নিরলস প্রচেষ্টা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে।

আজ তিনি শুধু একজন সফল করপোরেট নির্বাহী নন; তিনি বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার এক প্রতীক। তার জীবনগাথা নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণা, যেখানে কঠোর পরিশ্রম, সততা, দূরদর্শিতা এবং মানবিক মূল্যবোধ এক সুতোয় গাঁথা।

ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের জীবন ও কর্ম প্রমাণ করে—স্বপ্ন যদি বড় হয়, দৃষ্টিভঙ্গি যদি সুদূরপ্রসারী হয় এবং মানুষের কল্যাণ যদি লক্ষ্য হয়, তাহলে একটি গ্রাম থেকে উঠে এসেও বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব।

শীর্ষ সংবাদ:

ফিটনেসবিহীন গাড়ির চালকের আসনে তারেক রহমান: হাসনাত
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ৪ আওয়ামী জঙ্গি শনাক্ত
এনসিপির শীর্ষ চার পদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত, বদলাচ্ছে নেতৃত্ব
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ১২ সাবেক উপদেষ্টার নিন্দা
মুচলেকা দিয়ে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট ভিসি
ড. ইউনূসের হেনস্তার দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর: নাহিদ
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, সরকারের নিন্দা
ড. ইউনূস ভালো আছেন, কোনও ক্ষতি হয়নি: লামিয়া মোরশেদ
মোদিবিরোধী আন্দোলনে বাজলো হাসিনাবিরোধী প্রতিবাদী গান
পাখি আমদানির আড়ালে শত কোটি টাকা পাচার
ওয়ান ব্যাংকে অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ
বিএনপি’র সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ আর নেই
ইরানে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি: ট্রাম্প
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটির নিন্দা ও প্রতিবাদ
টেস্টে লিটন দাসের বিশ্বরেকর্ড
চুয়েটে ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ ১১ জন
নিউইয়র্কে ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা