ডা. মাহমুদুল হাসান পান্নুর সাফল্যের গল্প
ডা. মাহমুদুল হাসান পান্নু। যশোর মেডিকেল কলেজে (যমেক) কলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। পাইলস এনাল ফিশার, ফিস্টুলা, ফোঁড়া, মলদ্বার ক্যান্সার ও ল্যাপারোস্কপিক বিশেষজ্ঞ সার্জনের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
ল্যাপারোস্কপিক মেশিনের সাহায্যে রোগীর মলাশয়ের ক্যান্সার ও রোগীর গর্ভে সন্তান রেখে ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে অ্যাপেনডিক্স অস্ত্রোপচার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ডা. মাহমুদুল হাসান পান্নু। এ ধরণের অস্ত্রোপচার যশোরে এর আগে আর হয়নি। এছাড়া তার আন্তরিকতায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাইলস চিকিৎসার দ্বার খোলে। হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের নিচতলার বহির্বিভাগে চালু হয় পাইলস ক্লিনিক। একের পর এক চিকিৎসা সাফল্য অর্জনে চমক দেখিয়ে চলেছেন এ তরুণ চিকিৎসক।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাইলস চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় পাইলস ক্লিনিক। প্রতি মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত রোগীর চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. মাহমুদুল হাসান পান্নু। পাইলস ক্লিনিক চালুর মধ্য দিয়ে পাইলসের সর্বাধুনিক চিকিৎসার যশোরে শুরু হয়।
খুলনা ও রবিশাল বিভাগের মানুষ সরকারিভাবে পাইলসের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। পাইলসে আক্রান্ত রোগীদের ৮০ ভাগ ওষুধের মাধ্যমে সুস্থ হয়। বাকি ২০ভাগ রোগীর অপারেশনের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসায় পাইলস, কোলন ক্যান্সার, রেক্টামা, এনাল বা মলদ্বারের ক্যান্সার, ফিসটুলা, এনাল ফিসার, কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের বাধাগ্রস্ততা, আইবিএস, আলসাররিটিভ কোলাইটিস, ক্রনস ডিজিসসহ মলদ্বারের আধুনিক চিকিৎসা এখন ওষুধের মাধ্যমে সুস্থ করা সম্ভব।
২০২৪ সালের ২১ মার্চ ল্যাপারোস্কপিক মেশিনের মাধ্যমে যশোরে প্রথমবারের মত সেলিম মোল্লা নামে এক রোগীর মলাশয় ক্যান্সারের অস্ত্রোপচার হয়। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সরকারিভাবে অস্ত্রোপচারটি করেন সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসান পান্নু। ভুক্তভোগী সেলিম মোল্যা সদর উপজেলার হৈবতপুর গ্রামের আসমত আলী মোল্যার ছেলে। গত ৯ মার্চ সেলিম মোল্যাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেসরকারিভাবে অস্ত্রোপচার করতে ৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হতো। জটিল এ অস্ত্রোপচার সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে করতে পেরে দারুণ খুশি হয়েছেন রোগী সেলিম মোল্যার পরিবারের লোকজন।
আরও পড়ুন <<>> শ্বশুর-শাশুড়ি সেবায় সম্মাননা পেলেন ১২ পুত্রবধূ
২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল রাতে যশোর শহরের বেজপাড়া মেইন রোড এলাকার ছয়তলার পাশের বাসিন্দা হুসাইন আহমেদের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আফরোজা খাতুনের (৩৩) হঠাৎ পেটে ব্যথা শুরু হয়। পরে তাকে আনা হয় গাইনী চিকিৎসক নুরজাহানের চেম্বারে। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সমস্যা ধরতে পারছিলেন না। পরে ওই চিকিৎসকের পরামর্শে ২০ এপ্রিল রোগীকে নেয়া হয় কলোরেক্টাল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান পান্নুর কাছে। তিনি আল্ট্রাসনো রিপোর্ট দেখে নিশ্চিত হন রোগী অ্যাপেনডিক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। তার অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে গেছে। তখন দ্রুত অস্ত্রোপচারের নির্দেশনা দেন। ২২ এপ্রিল গর্ভে সন্তান রেখে আফরোজা খাতুনের নামে ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে অ্যাপেনডিক্স অস্ত্রোপচার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ডা. মাহমুদুল হাসান পান্নু। অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে এ ধরণের অস্ত্রোপচারটি ছিলো যশোরে প্রথম।
রোগী সেলিম মোল্যার ছেলে ইশারত আলী মোল্যা জানান,
ডা. মাহমুদুল হাসান পান্নু একজন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। ৩ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচারটি বিনামূল্যে করে একজন আদর্শ চিকিৎসকের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
আফরোজা খাতুনের স্বামী হুসাইন আহমেদ জানান,
ডা. মাহমুদুল হাসান পান্নুর প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। তার সফল অস্ত্রোপচারে স্ত্রী ও সন্তান সুস্থ জীবন ফিরে পেয়েছেন। তিনি একজন মানবিক চিকিৎসকের পরিচয় দিয়েছেন।
সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসান পান্নু জানান, মলাশয়ের সমস্যা নিয়ে সেলিম মোল্যা তার ব্যক্তিগত চেম্বারে গিয়েছিলেন। মলদ্বারের ক্ষতস্থান কলোনস্কপি ও হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। বেসরকারিভাবে অস্ত্রোপচার করতে ৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হতো। রোগীর আর্থিক দিক বিবেচনা করে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। ল্যাপারোস্কপিক মেশিনের সাহায্যে যশোরে তিনিই প্রথম মলাশয়ের ক্যান্সার অস্ত্রোপচার করেন।
ডা. মাহমুদুল হাসান পান্নু আরও জানান, গর্ভে সন্তান রেখে রোগীর ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে অ্যাপেনডিক্স অস্ত্রোপচার সফলতায় মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞ তিনি। কেননা, ওই পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করা না হলে দুটি প্রাণ ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। রোগীর সুস্থতায় তিনি আনন্দিত। তিনি আগামীতে চিকিৎসাসেবায় আরও ভাল কিছু করতে চান
সবার দেশ/কেএম






















