স্বপ্ন থেকে বাস্তব
ছয় বছরে গ্রামের বুকে ‘বই ঘর পাঠাগার’-এর অনন্য যাত্রা
মাধ্যমিক জীবনের এক ছোট্ট স্বপ্ন—গ্রামে একটি পাঠাগার গড়ে তোলা। সে স্বপ্নই আজ ছয় বছরের পথচলায় বাস্তব রূপ নিয়েছে ‘বই ঘর পাঠাগার’-এর মাধ্যমে।
২০২০ সালের এ দিনে পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করে পাঠাগার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন উদ্যোগী তরুণ মেহেদি হাসান। তবে শুরুর দেড় বছরে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কাজ এগোয়নি তেমন। আয়োজন করা যায়নি কোনও অনুষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও। তবুও থেমে থাকেননি তিনি। ধীরে ধীরে, নিজের মতো করে এগিয়ে নিয়েছেন স্বপ্নটিকে।
অবশেষে দেড় বছর পর সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। এরপর থেকে দীর্ঘ ছয় বছরে পাঠাগারটি হয়ে উঠেছে গ্রামের মানুষের জন্য জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
এ উদ্যোগের পেছনে ছিলো একান্ত ব্যক্তিগত ত্যাগ। নিজের টিফিনের টাকা, যাতায়াত ভাড়ার অতিরিক্ত অংশ, শখের জিনিস কেনার অর্থ—সবকিছু সঞ্চয় করে এবং বাবা-মায়ের সহযোগিতায় গড়ে তোলা হয়েছে এ পাঠাগার।
পথচলায় বাধাও এসেছে। অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছেন, সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সেসব উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার ফলেই আজ ‘বই ঘর পাঠাগার’ গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।
উদ্যোক্তার ভাষায়, এটি শুধু একটি পাঠাগার নয়, বরং একটি বড় স্বপ্নের বাস্তবায়ন। তিনি বিশ্বাস করেন, কথার চেয়ে কাজই বড়—আর সে কাজ করেই দেখানো গেছে।
পাঠাগারটির এ যাত্রায় যারা শ্রম দিয়েছেন, বই দিয়েছেন কিংবা আর্থিক সহায়তা করেছেন—সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনেই আগামীর পথচলা আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ পাঠাগার প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য একটাই—জ্ঞানপিপাসু মানুষের মানসিক ক্ষুধা মেটানো। উদ্যোক্তা সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন, যেনো এ পাঠাগারটি সবসময় পাঠকদের মাঝে বেঁচে থাকে এবং আলোর পথ দেখাতে পারে।
সবার দেশ/কেএম

























