Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ১৭:০৪, ৩১ আগস্ট ২০২৬

পূজার আগেই পাকিস্তানের হামলার প্রস্তুতিতে শঙ্কিত ভারত 

পূজার আগেই পাকিস্তানের হামলার প্রস্তুতিতে শঙ্কিত ভারত 
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা ঘিরে ভারতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন, সীমান্ত এলাকায় ভারী কামান মোতায়েন এবং একাধিক দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—ভারতের বিরুদ্ধে নতুন কোনও সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে কি ইসলামাবাদ?

তবে পাকিস্তান শিগগিরই ভারতের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে যাচ্ছে—এমন কোনও নির্ভরযোগ্য বা নিশ্চিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে আসন্ন হামলার আশঙ্কাকে আপাতত সম্ভাবনা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২৯ আগস্ট ইসলামাবাদের কাছে ওয়াহ সেনানিবাসে অবস্থিত পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজ (পিওএফ) পরিদর্শন করেন আসিম মুনির। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা এবং স্থানীয়ভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা পর্যালোচনার জন্যই সেনাপ্রধানের এ সফর।

পরিদর্শনের সময় মুনির অস্ত্রের নকশা, উৎপাদন সক্ষমতা এবং গোলাবারুদের পরীক্ষার কার্যক্রম সম্পর্কে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন। একই সঙ্গে উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করেন তিনি।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়ন এবং বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমাতে স্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। চলতি বছরের শেষ দিকে আরও দুটি অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রে উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, সেনাপ্রধানের সরাসরি অস্ত্র কারখানা পরিদর্শনের কৌশলগত গুরুত্বও রয়েছে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

পাকিস্তানের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি কারণ হিসেবে সীমান্ত এলাকায় ভারী কামান মোতায়েনের খবর সামনে এসেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত চীনা নির্মিত এসএইচ-১৫ ১৫৫ মিলিমিটার স্বচালিত হাউইটজার দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থলভিত্তিক অস্ত্রগুলোর একটি।

সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের অস্ত্র মোতায়েনের খবর পাকিস্তানের স্থলবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এসব মোতায়েনের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এবং ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহারের কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

পাকিস্তানের জন্য ভারতের পাশাপাশি আফগানিস্তান সীমান্তের নিরাপত্তাও বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলেও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা মোকাবিলা করছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান একাধিক দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়েছে। চীন দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী ও কৌশলগত অংশীদার।

পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও স্থলভিত্তিক অস্ত্র ব্যবস্থার একটি বড় অংশ চীনা প্রযুক্তি বা সহযোগিতার সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি তুরস্কের সঙ্গেও ইসলামাবাদের সামরিক সহযোগিতা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ আগস্ট কুয়েতের সঙ্গে পাকিস্তানের ‘যৌথ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করেছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে চীন ও তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানের চলাচল নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে। এসব বিমানের মাধ্যমে কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করা হয়েছে, সে বিষয়ে অবশ্য নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

গত বছরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সৃষ্টি হয়। ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়।

কয়েক দিনের সামরিক সংঘাতের পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছালেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ওই সংঘাতের পর ভারতও সতর্ক করে দিয়েছে—ভবিষ্যতে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হলে তার জবাব আরও কঠোর হতে পারে।

এ কারণে পাকিস্তানের সামরিক তৎপরতা নিয়ে ভারতে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা দ্রুত বড় আকার ধারণ করতে পারে—বিশেষ করে দুই দেশই পরমাণু অস্ত্রধারী হওয়ায়।

পাকিস্তানের অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো, সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়ন, সীমান্তে ভারী অস্ত্র মোতায়েন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা—সব মিলিয়ে দেশটির সামরিক প্রস্তুতি যে জোরদার হচ্ছে, সে বিষয়ে খুব বেশি সন্দেহ নেই।

তবে এর সবকিছুকে ভারতের বিরুদ্ধে আসন্ন হামলার প্রস্তুতি হিসেবে ব্যাখ্যা করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনও নেই।

পাকিস্তানের সামনে একই সময়ে একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ—এসব কারণেও ইসলামাবাদকে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে হচ্ছে।

ফলে আসিম মুনিরের অস্ত্র কারখানা পরিদর্শনকে একদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে, অন্যদিকে এর সম্ভাব্য কৌশলগত বার্তাও উপেক্ষা করা যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে, ‘পূজার আগেই পাকিস্তান ভারতকে হামলা করতে পারে’—এমন কোনও নিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ্যে না এলেও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু ভারত-পাকিস্তানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

সবার দেশ/এমকেজে

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:

শিল্প কোনও পাপ নয়: প্রভা
মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্সের আনুষ্ঠানিক যাত্রা
দেশে প্রথম রোবটিক সার্জারি, প্রথম দিনে ২ রোগীর অস্ত্রোপচার
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে গুডবাই বললেন মেসি
পূজার আগেই পাকিস্তানের হামলার প্রস্তুতিতে শঙ্কিত ভারত
‘ইসলাম শ্রেষ্ঠ ধর্ম’ মন্তব্যে কর্ণাটকের মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিজেপির
মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব, জর্ডানে ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
৬ মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়নি: সংসদীয় কমিটি
নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃত্যু প্রায় ৮০০, নিখোঁজ আড়াই হাজার
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে ইতিবাচক অগ্রগতি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ডুবে ডুবে নৌকা খুঁজলে ‘হাঁস’ খেয়ে ফেলবে জনগণ-রুমিন ফারহানাকে হুঁশিয়ারি সারোয়ার তুষারের
রাজধানীতে এলোপাতাড়ি গুলি, নারীসহ আহত ৩
সাগর-রুনি হত্যায় জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচী জড়িত!
আ.লীগ নেতার সেমিনারের অনুমতি দেয়নি দিল্লি
সৌদিতে নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা
এনবিআরের ৬৮ কর্মকর্তার একযোগে বদলি