Sobar Desh | সবার দেশ চবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:৪২, ২ নভেম্বর ২০২৬

চুয়েটে ক্লাস শুরুর ৬ দিনের মাথায় ফের শাটডাউন

চুয়েটে ক্লাস শুরুর ৬ দিনের মাথায় ফের শাটডাউন
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ৩৬ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে সীমিত পরিসরে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর মাত্র ছয় দিনের মাথায় আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলমের অনুপস্থিতিতে অন্য একজন শিক্ষককে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সোমবার (২ নভেম্বর) এক দিনের সর্বাত্মক একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করেছেন তারা।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকটের প্রকৃত চিত্র বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পরামর্শক কমিটির কাছে তুলে ধরতে হবে।

রোববার বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অচলাবস্থার পর নিজেদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে তারা ক্লাস ও পরীক্ষায় ফিরেছেন। তবে নতুন উপাচার্যকে তারা মেনে নেননি। ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রমে তার কোনও ধরনের হস্তক্ষেপও চান না। এ অবস্থায় উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে অন্য একজনকে রুটিন দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত তাদের পূর্বঘোষিত অবস্থানের পরিপন্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহতাব হক বলেন, দীর্ঘদিন আন্দোলনের পর শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনা করে তারা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছিলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত অবস্থান উপেক্ষা করে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব অন্য একজনকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া সম্ভব নয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই সোমবার শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের পুনর্বহাল চান। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

পরে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেয়া এক জরুরি বিবৃতিতে জানানো হয়, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস, পরীক্ষা এবং রুটিন দায়িত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জন করা হবে। শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ক্যাম্পাসকে আবারও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

রুটিন দায়িত্ব নিয়ে আপত্তি

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার ই-মেইল বার্তায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলমের অনুপস্থিতিতে তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেয়া হয়।

ইউজিসির একটি সভায় অংশ নিতে ২ নভেম্বর ঢাকায় অবস্থান করবেন উপাচার্য। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ১ নভেম্বর বিকেল থেকে ২ নভেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেন বিষয়টিকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা ‘রেগুলার ইস্যু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমও দাফতরিক কাজে ঢাকায় যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তার অনুপস্থিতিতে রুটিন দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছেন।

এর আগে গত ১১ ও ১২ অক্টোবর যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে দুই দিনের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। এর মধ্যে ১২ অক্টোবর ক্যাম্পাসে এসে নবনিযুক্ত উপাচার্য ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক নেতাদেরসহ প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহায়তায় তিনি মুক্ত হন।

৩৬ দিনের অচলাবস্থার পর ফের অনিশ্চয়তা

গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটে নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। পরদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে দীর্ঘ ৩৬ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকে।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে গত ২৮ অক্টোবর সীমিত পরিসরে ক্লাস শুরু হয়। রোববারও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস চলে। তবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিরোধ তৈরি হওয়ায় আবারও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা এসেছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসনে ইউজিসির ছয় সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পৃথকভাবে মতবিনিময় করেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও মতামত পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ দেয়ার কথা জানিয়েছে কমিটি।

তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও সংকটের সমাধান না হওয়ায় চুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এক দফা দাবি অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের পুনর্বহাল। অন্যদিকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও উপাচার্যের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে বিরোধ অব্যাহত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ কবে ফিরবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

তাহসিফ হত্যাকাণ্ড তদন্তে রহস্যময় গোলকধাঁধা
আন্দোলন চললে কারখানা বন্ধের হুঁশিয়ারি মালিকদের
পানি না এলে ভারতের পণ্যও আসবে না: নাহিদ ইসলাম
চিকিৎসকদের মানবিক হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
গার্মেন্টস অস্থিরতায় সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মধ্যরাতে দীপিকার বাড়িতে ভৌতিক শব্দ, জানালেন রহস্য!
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জুলাই সনদ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা মন্ত্রণালয়ের
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতৃত্বে মিল্টন-জাহাঙ্গীর
চুয়েটে ক্লাস শুরুর ৬ দিনের মাথায় ফের শাটডাউন
মণিপুরে ভয়াবহ জাতিগত সংঘাত, নিহত ৫
শ্রমিক বিক্ষোভে ৫২৯ কারখানায় ছুটি ঘোষণা
কাতারের এলএনজি ট্যাংকারে হামলা, হরমুজ খুলতে ইরানের ৭ শর্ত
আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি
মিরপুরে নাশকতার সমন্বয়ক ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ: ডিবি
শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার চেষ্টা, আ.লীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেফতার
মিরপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, খুলেছে মেট্রো স্টেশন
এপস্টেইন কাণ্ডে ট্রাম্পের আইনি পরাজয়