নির্বাচনী ভরাডুবিতে কোণঠাসা লেবার পার্টি
স্টারমারের দলে বিদ্রোহ, একদিনে ৩ মন্ত্রীর পদত্যাগ
স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর চরম রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়তে থাকায় মঙ্গলবার একদিনেই তার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনজন মন্ত্রী।
পদত্যাগ করা মন্ত্রীরা হলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জেস ফিলিপস, ডিভল্যুশন, ফেইথ অ্যান্ড কমিউনিটিজ বিষয়ক মন্ত্রী মিয়াত্তা ফানবুলেহ এবং নারী ও কন্যাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ ও ভিকটিমস বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স ডেভিস জোন্স।
বার্তা সংস্থা CNN–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তারা নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। এতে লেবার পার্টির অভ্যন্তরে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাবিনেট বা মন্ত্রিসভা হলো সরকারের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ প্রায় ২০ জন মন্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত একটি নীতিনির্ধারণী দল। প্রধানমন্ত্রী তাদের স্বাস্থ্য, পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি ও পরিবহনসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে থাকেন।
বর্তমান মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি, অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার।
তবে সংকটের মধ্যেও স্টারমারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলিসহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর থেকেই দলের ভেতরে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ইতোমধ্যে দলটির বেশ কয়েকজন এমপি তাকে পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।
যদিও বাড়তে থাকা চাপের মধ্যেও সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি কিয়ার স্টারমার। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টার রাজনৈতিক অস্থিরতা সরকার ও দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে।
মন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের মানুষ সরকারের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সরকার পরিচালনায় পূর্ণ মনোযোগ দেয়া।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরপর মন্ত্রীদের পদত্যাগ এবং দলের অভ্যন্তরীণ চাপ স্টারমারের নেতৃত্বকে আরও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। সামনে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে লেবার পার্টির ভেতরে বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকট তৈরি হতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























