Sobar Desh | সবার দেশ মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:২৩, ১৪ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: ২০:২৮, ১৪ আগস্ট ২০২৫

বেনাপোলে স্থল বন্দরে আমদানি-রফতানিতে ধস

বেনাপোলে স্থল বন্দরে আমদানি-রফতানিতে ধস
ছবি: সবার দেশ

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতেই আমদানি-রফতানির পরিমাণ ব্যাপক হ্রাস হয়েছে। পণ্যে সরকারি নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ট্রাক চলাচলের সীমাবদ্ধতার কারণে বেনাপোল দিয়ে আমদানি কমেছে প্রায় ৩২ হাজার মেট্রিক টন এবং রফতানি কমেছে ২১ হাজার মেট্রিক টন। এর ফলে বন্দরের সঙ্গে জড়িত ব্যবসা, শ্রমিক ও পরিবহন খাতে পড়েছে মারাত্মক প্রভাব।

বেনাপোল স্থলবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিলো ২১ লাখ ৩০ হাজার ২২৮ মেট্রিক টন পণ্য।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে দাঁড়ায় ২০ লাখ ৫৬ হাজার ২৮১ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ, এক বছরে আমদানি কমেছে ৭৩ হাজার ৯৪৭ মেট্রিক টন।

একই সময়ে রফতানি হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৭৫০.১৪ মেট্রিক টনে। গত অরাথবছরের তুলনায় রফতানি হ্রাসের পরিমাণ ৩৫ হাজার ৯২১.৮৬ মেট্রিক টন।

চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসেও এ নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। জুন মাসে আমদানি হয় ১ লাখ ৪ হাজার ৬৭৫ মেট্রিক টন, যা জুলাইতে কমে দাঁড়ায় লাখের নিচে। রফতানিও কমে হয়েছে মাত্র ২০ হাজার ৩৫১.১৮ মেট্রিক টন।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, প্রতিদিন যেখানে আগে গড়ে ৫শ ট্রাক পণ্য আমদানি হতো, এখন তা কমে ৩শ-এর নিচে নেমে এসেছে। একই অবস্থা রফতানিতেও ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি পণ্যের মধ্যে ছিল শিল্প কারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, শিশু খাদ্য, মাছ, কেমিক্যাল, মোটরপার্টস, কসমেটিকসসহ নানা পণ্য। উচ্চ শুল্ক আরোপিত পণ্যগুলোর আমদানি বেশি কমেছে।

রফতানি পণ্যের মধ্যে ছিলো—পাট ও পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, বসুন্ধরা টিস্যু, মেলামাইন ও মাছ। এরই মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য, স্থলবন্দরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। ভারতের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব পণ্যের রফতানি প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল থেকে ভারত তাদের আকাশপথ ব্যবহার করে বাইরের দেশে বাংলাদেশি পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেয়। এরপর ১৭ মে আরেকটি নিষেধাজ্ঞায় গার্মেন্টস, তৈরি পোশাক, তুলা, সুতির বর্জ্য, প্লাস্টিক, কাঠের আসবাব ও ফলজাত পণ্য রফতানিও নিষিদ্ধ করে। এতে দুই দেশের বাণিজ্যে বড় ধস নামে।

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সভাপতি মোহসিন মিলন জানান, এ বন্দর দিয়েই ভারত-বাংলাদেশের সিংহভাগ বাণিজ্য হয়ে থাকে। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ট্রাক চলাচল হ্রাস পেয়েছে। সরকারের কিছু পণ্যে নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যবসা কমেছে। এর প্রভাব পড়ছে শ্রমিক, পরিবহন খাত এবং সরকারের রাজস্বে। 

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না ফিরলে এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল না হলে বন্দরের বাণিজ্য আরও নাজুক হবে। সরকার ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক মো. শামীম হোসেন জানান, সরকার বেশ কিছু পণ্যে আমদানি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এসব পণ্য দেশের অভ্যন্তরেই উৎপাদিত হয়। এতে করে ওই পণ্যগুলো বন্দর দিয়ে আর আসছে না। এ বন্দর দিয়ে আগে ভারত থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ ট্রাক পণ্য আসতো, রফতানি হতো ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক পণ্য। এখন তা কমে ৩০০ ট্রাকে নেমেছে আমদানি এবং রফতানি নেমেছে ১০০ ট্রাকের নিচে।

ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল না হলে বেনাপোল বন্দরের বাণিজ্য আরও কমে যেতে পারে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন