‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতা
ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তোলা ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন উদ্যোগ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ভবিষ্যতেও তাদের ডিজিটাল প্রচারণা ও কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ। তবে দেশে ফিরলে আইনি জটিলতা কিংবা গ্রেফতারের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কার কথাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিজিৎ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারতে থাকা তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দেশে ফিরে এলে বিমানবন্দরেই তাকে আটক করা হতে পারে।
অভিজিতের দাবি, পুরো উদ্যোগটির সূচনা হয়েছিলো সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক ও রসাত্মক পোস্ট থেকে। ক্ষোভের মুহূর্তে করা সে পোস্ট অল্প সময়ের মধ্যেই তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং দ্রুত ভাইরাল হয়ে ওঠে।
তিনি জানান, বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্ম এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে। পোস্টটির মন্তব্য ঘরে অনেকেই মজার ছলে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা দল গঠনের প্রস্তাব দিতে থাকেন। সে আলোচনা থেকেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ধারণার জন্ম হয়।
অভিজিৎ বলেন, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ আমাদের ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করেন। এরপর ধীরে ধীরে এটি একটি বৃহৎ অনলাইন কমিউনিটিতে পরিণত হয়।
সংগঠনটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। দাবি করা হচ্ছে, বর্তমানে তাদের ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত সদস্যসংখ্যা ১০ লাখের বেশি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক উপস্থিতির ক্ষেত্রে ভারতের অনেক প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলকেও ছাড়িয়ে গেছে।
তবে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা স্পষ্ট করেছেন, এটি মূলত একটি ব্যঙ্গধর্মী ও ডিজিটালভিত্তিক সামাজিক-রাজনৈতিক উদ্যোগ। তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা তৈরির ক্ষেত্র হিসেবেই তারা এটিকে দেখতে চান।
এদিকে সংগঠনটির উত্থান নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের প্রভাবশালী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস। সংগঠনটির শীর্ষ প্রচারক সুনীল আম্বেকার বলেছেন, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নিয়ে তাদের কোনও উদ্বেগ নেই।
তার মতে, ভারতের তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী এবং রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের আস্থা এখনও অটুট রয়েছে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্ভূত এ ধরনের ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর প্রতি তরুণদের হতাশা, ব্যঙ্গ ও ডিজিটাল যুগের নতুন ধরনের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রতীক হিসেবে আলোচনায় এসেছে। যদিও এটি আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল নয়, তবুও সোশ্যলি মিডিয়ায় এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























