সিএনএনের প্রতিবেদন
আমেরিকার জরুরি তেলের ভান্ডার দ্রুত খালি করছেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একসময় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে তেল বিক্রির জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন-এর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু এখন গ্যাসের বাড়তি দাম নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ বাড়তে থাকায় ট্রাম্প প্রশাসন নিজেই আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় দ্রুত গতিতে জরুরি তেলের মজুত ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম।
২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারের সূচনায় ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো-তে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, নির্বাচনের আগে পেট্রোলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাইডেন প্রশাসন কার্যত আমেরিকার কৌশলগত তেলের ভান্ডার খালি করে ফেলেছে। তিনি দাবি করেছিলেন, নিজের মেয়াদে তিনি সে মজুত পুনরায় পূর্ণ করেছিলেন।
তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে জনঅসন্তোষ বাড়তে থাকায় ট্রাম্প প্রশাসনও একই পথে হাঁটছে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এসপিআর থেকে তেল ছাড়ার পরিমাণ অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে রিজার্ভে থাকা অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ নেমে এসেছে ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু তাৎক্ষণিক জ্বালানি বাজারেই প্রভাব ফেলছে না, ভবিষ্যতের জন্যও বড় চাপ তৈরি করছে। কারণ একসময় এ রিজার্ভ আবার পূরণ করতে হবে, যা বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা ও তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রধান তেল বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ বলেন, এ ব্যারেলগুলো একসময় আবার রিজার্ভে ফেরত রাখতে হবে এবং সেটি বাজারে দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ভূগর্ভস্থ গুহায় সংরক্ষিত এসপিআর বিশ্বের সবচেয়ে বড় জরুরি অপরিশোধিত তেলের মজুত হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, হারিকেন কিংবা বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসন এ রিজার্ভ ব্যবহার করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হোয়াইট হাউসের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে জরুরি মজুত দ্রুত কমে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: সিএনএন
সবার দেশ/কেএম




























