Sobar Desh | সবার দেশ নরসিংদী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:২২, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৬:২৪, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান প্রশাসনের

সড়ক সম্প্রসারণে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ভাস্কর্য সাময়িক অপসারণ

সড়ক সম্প্রসারণে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ভাস্কর্য সাময়িক অপসারণ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মহাসড়কের পাশে স্থাপিত বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ভাস্কর্য সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণরূপে সড়ক সম্প্রসারণ কাজের প্রয়োজনে নেয়া একটি সাময়িক পদক্ষেপ, এর সঙ্গে বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতির প্রতি কোনও ধরনের অসম্মান বা অবহেলার সম্পর্ক নেই।

ভাস্কর্য অপসারণের একটি ভিডিও ও কয়েকটি ছবি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া প্রায় এক মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি এক্সকাভেটরের সাহায্যে ভাস্কর্যটি অপসারণ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। রায়পুরার মাহমুদাবাদ এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, দুদিন আগেই সড়ক সম্প্রসারণ কাজের জন্য ভাস্কর্যটি সরানো হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান আমাদের জাতীয় গর্ব। তার নামে নির্মিত ভাস্কর্যটি আগের নকশা অনুসরণ করে দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা উচিত।

উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের স্বার্থেই ভাস্কর্যটি সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছে। সড়ক সম্প্রসারণ শেষে আগের নকশা ও কাঠামো বজায় রেখেই ভাস্কর্যটি পুনরায় স্থাপন করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা বলেন, ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিকার কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ভাস্কর্যটি সাময়িকভাবে সরানো হয়েছে। পুনর্নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং আগের নকশা অনুযায়ীই ভাস্কর্যটি আবার স্থাপন করা হবে। এ নিয়ে কোনও ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজবে কান না দেয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে তিনি পাকিস্তানের একটি বিমান ঘাঁটি থেকে একটি যুদ্ধবিমান নিয়ে দেশে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে শহীদ হন। তার অসামান্য বীরত্ব, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর এলাকায়। তার স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে ২০০৮ সালে তার গ্রামের বাড়িতে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের পাশে রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকায় তার নামে একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে পথচারী ও স্থানীয় মানুষের জন্য বীরত্বের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবারও জানানো হয়েছে, ভাস্কর্য অপসারণ কোনো রাজনৈতিক বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত নয়। এটি সম্পূর্ণ অস্থায়ী ব্যবস্থা, এবং সড়ক উন্নয়ন কাজ শেষ হলেই বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতিচিহ্ন আগের মতোই নতুন করে স্থাপন করা হবে।

সবার দেশ/কেএম