Sobar Desh | সবার দেশ ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:২৯, ৭ অক্টোবর ২০২৬

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, আটক ১

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, আটক ১
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানোর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে ভাস্কর্যটির গলায় জুতার মালা দেখা যায়।

এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্যটি অপসারণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর নতুন করে এ ঘটনা ঘটল।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। তিনি জানান, বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

ঝিনাইদহ সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবু তোয়াব অপু বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফেসবুকে ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানোর ছবি দেখতে পান তিনি। এরপর বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাস্কর্যটির গলায় জুতার মালা দেখতে পান। সেখান থেকেই তিনি জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি ভাস্কর্যটিতে সাদা রং করা হয়েছে। এতে দূর থেকেও ভাস্কর্যটি সহজে দেখা যায়। মঙ্গলবার সকালে ভাস্কর্যটির গলায় জুতার মালা ঝোলানো অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অনেক মানুষ সেখানে জড়ো হন।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে দুপুরে তিনি হামিদুর রহমান চত্বরে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই কেউ জুতার মালাটি সরিয়ে ফেলেন। স্থানীয় দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, রাতের কোনও এক সময় দুষ্কৃতকারীরা ভাস্কর্যটিতে জুতার মালা ঝুলিয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে সভা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের ঝিনাইদহের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আসাদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, একটি চক্র ভাস্কর্যটি সেখানে রাখতে চায় না। তাদের কেউ রাতের আঁধারে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভাস্কর্যটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়েছে। কোনও পক্ষ ভাস্কর্যটি ভেঙে অন্য পক্ষের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবিও জানান তিনি।

২০১৯ সালের ২৬ মার্চ ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের প্রবেশমুখে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর উদ্বোধন করা হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার মেয়র এর উদ্বোধন করেন। চত্বরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের পতাকা ও মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্যও নির্মাণ করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুই দফায় ভাস্কর্যটি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে চলতি বছরের ১৩ জুলাই থেকে কয়েক দিন ধরে আবারও ভাস্কর্যটি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ১৬ জুলাই প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভাঙচুর বন্ধ করা হয়।

সর্বশেষ জুতার মালা ঝোলানোর ঘটনায় ভাস্কর্যটির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসন বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সবার দেশ/কেএম