মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে, হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির
মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য বিদেশি বাহিনীকে সরিয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। সোমবার দেয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ইরানের বাহিনীর পাল্টা আঘাতের কারণে মার্কিন ও শত্রু বাহিনী এখন আর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমার দিকে এগিয়ে আসার সাহস করছে না। শিগগিরই আরব সাগর থেকেও তাদের সরিয়ে দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মোজতবা খামেনির এ বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসানে মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার পথ তৈরি করতে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে।
বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, অতীতে ইরানের দক্ষিণে সমুদ্রাঞ্চল শত্রু বাহিনীর বিচরণক্ষেত্র ছিলো। তবে হরমুজ প্রণালির রক্ষক ও ইরানি যোদ্ধাদের পাল্টা আঘাতের পর বিদেশি বাহিনী এখন আর আরব সাগরের ওপারে এগিয়ে আসতে পারছে না। খুব শিগগির আরব সাগরও তাদের উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এ বক্তব্যে দেশটির সামরিক অবস্থান ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তেহরানের কৌশলগত অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। কাতারের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইরান এর আগে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অবরোধ প্রত্যাহার করলে সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ইরানের প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করছেন না। এরপরও চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতার মধ্যেই মোজতবা খামেনির সর্বশেষ বক্তব্য সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। একদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে, অন্যদিকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছেন।
মোজতবা খামেনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকে তার প্রকাশ্য উপস্থিতি সীমিত ছিলো। সর্বশেষ এ বার্তায় তিনি সরাসরি আঞ্চলিক সামরিক পরিস্থিতি ও বিদেশি বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।
সংঘাতের পাশাপাশি ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার পথ খোলা রাখার বার্তাও দেয়া হচ্ছে। ফলে হরমুজ প্রণালি, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে আগামী দিনের কূটনৈতিক আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: ডেইলি মেইল।
সবার দেশ/কেএম




























