নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করা দেশের তালিকা প্রকাশ ইসরায়েলের
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় অনুপস্থিত থাকা বা ভাষণ শুরুর পর অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়া ৭৭টি দেশের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি পক্ষ।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় এসব দেশের প্রতিনিধিদল হয় অধিবেশনকক্ষে উপস্থিত ছিলো না, নয়তো ভাষণ শুরুর সময় কক্ষ ত্যাগ করে। তবে তালিকাভুক্ত সব দেশ যে নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জনের উদ্দেশ্যে কক্ষ ছেড়েছে, তা নিশ্চিত নয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমও জানিয়েছে, কিছু দেশের প্রতিনিধি অধিবেশনের ওই পর্বে শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন না।
ভয়েস অব এমিরেটসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক ইসরায়েলি কূটনীতিক নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় কক্ষের বিভিন্ন সারির মধ্য দিয়ে ঘুরে বেরিয়ে যাওয়া প্রতিনিধিদলের তথ্য নোট করেন। পরে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে ৭৭টি দেশের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
নেতানিয়াহু ভাষণ শুরু করার আগে থেকেই বেশ কিছু প্রতিনিধিদল অধিবেশনকক্ষ ত্যাগ করে। তিনি ভাষণের শুরুতে হল ছেড়ে যাওয়া প্রতিনিধিদের সমালোচনা করেন এবং তাদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের সময়ও আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি কক্ষ ত্যাগ করেন।
অধিবেশনকক্ষে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’সহ বিভিন্ন স্লোগান ও দুয়োধ্বনি শোনা যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদল এবং গ্যালারিতে থাকা কিছু দর্শকের কাছ থেকে করতালিও শোনা যায়।
ইসরায়েলি পক্ষের প্রকাশিত ৭৭ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নামও রয়েছে। তালিকায় রয়েছে—সুরিনাম, টুভালু, তুর্কমেনিস্তান, ইয়েমেন, মিসর, পানামা, সেনেগাল, ফিলিস্তিন, সুদান, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, ভেনেজুয়েলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বেলিজ, কঙ্গো, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, টোঙ্গা, উজবেকিস্তান, অ্যাঙ্গোলা, বার্বাডোস, কলম্বিয়া, কোমোরোস, ডমিনিকা, জিবুতি, উত্তর মেসিডোনিয়া, সান মারিনো, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, ব্রুনেই দারুসসালাম, ব্রাজিল, চিলি, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, লেবানন, লাইবেরিয়া, ইরিত্রিয়া, চাদ, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, জর্ডান, নিকারাগুয়া, মাদাগাস্কার, নাইজার, পেরু, সেন্ট লুসিয়া, স্লোভেনিয়া, আফগানিস্তান, বাহামাস, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বতসোয়ানা, উত্তর কোরিয়া, ইসোয়াতিনি, সিরিয়া, উগান্ডা, পাকিস্তান, লেসোথো, বলিভিয়া, স্পেন, কিউবা, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরান, কিরগিজস্তান, ইরাক, মোজাম্বিক, মিয়ানমার, আয়ারল্যান্ড, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, নামিবিয়া, মালয়েশিয়া, গায়ানা ও কেনিয়া।
তবে ৭৭টি দেশের পুরো তালিকাকে সরাসরি ‘ভাষণ বর্জনকারী দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সতর্কতা রয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকার কিছু দেশের প্রতিনিধি অধিবেশনকক্ষে উপস্থিতই ছিলেন না। আবার পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল ভাষণের শুরুতে কক্ষ ত্যাগ করলেও পরে বাইরে থেকে বক্তব্য শোনে বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের প্রতিনিধিরা অধিবেশনকক্ষে থেকে নেতানিয়াহুর বক্তব্য শোনেন। চীন, কলম্বিয়া, আজারবাইজান ও গ্রিসের প্রতিনিধিরাও অধিবেশনকক্ষে ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ৭৭টি দেশের তালিকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জনকারী দেশ’ হিসেবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে প্রকাশিত তালিকাটি ইসরায়েলি পক্ষের হিসাব হিসেবে বিবেচনা করাই যথাযথ।
সবার দেশ/কেএম




























