ভারতে মসজিদ রক্ষায় রাতভর মুসল্লিদের পাহারা
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একাংশ অপসারণ ঠেকাতে রাতেও মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থান করছেন শত শত মুসল্লি। সম্ভাব্য উচ্ছেদ ও আংশিক ভাঙার আশঙ্কায় কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় মুসলিমরা সেখানে অবস্থান করছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতেও মসজিদের ভেতরে ও বাইরে মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
মসজিদের একাংশ অপসারণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেয়া হলেও বিপুলসংখ্যক মানুষের অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মসজিদ রক্ষায় তারা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন। এদিকে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
সড়ক সম্প্রসারণ ঘিরে বিরোধ
উজ্জয়নে ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলাকে সামনে রেখে শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক সম্প্রসারণের একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে খাজর ওয়ালি মসজিদ থেকে গণেশ চৌক পর্যন্ত প্রায় ৭৩০ মিটার সড়ক ১৫ মিটার প্রশস্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ২৭২টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা অপসারণের তালিকায় রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রকল্পের আওতায় শাহী মসজিদের একটি অংশও অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অপসারণের মধ্যে রয়েছে মসজিদের জামাতখানার একটি অংশ, প্রায় ১২০ ফুট উঁচু একটি মিনার এবং মাজার চৌক শাহী নামে পরিচিত সামনের অংশ।
মুসলিম পক্ষের দাবি, এসব স্থাপনা মসজিদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক কাঠামোর অংশ। ফলে এগুলোর আংশিক অপসারণ মসজিদের ঐতিহ্য ও কাঠামোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
মুসলিম পক্ষের আপত্তি
ইন্দোরের ইসলামি আলেম মুফতি জুনাইদসহ মুসলিম পক্ষের প্রতিনিধিরা দাবি করছেন, একটি ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে সড়ক সম্প্রসারণের পরিবর্তে বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা উচিত। তাদের আশঙ্কা, শাহী মসজিদের অংশবিশেষ অপসারণের নজির তৈরি হলে উজ্জয়নের আরও পুরোনো ধর্মীয় স্থাপনা একই ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
মুসলিম পক্ষের আইনজীবী ও অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটসের আইনজীবী জায়েদ পাঠান জানিয়েছেন, হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এদিকে মসজিদের ভেতরে অবস্থানকারীরা প্রস্তাবিত অপসারণের প্রতিবাদ জানিয়ে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন।
হাইকোর্টের রায়ে কী বলা হয়েছে
শাহী মসজিদের একাংশ অপসারণের নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে করা দুটি আবেদন গত ৯ সেপ্টেম্বর খারিজ করেন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারপতি সন্দীপ এন ভাট। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, উজ্জয়নের সড়ক ১৫ মিটার প্রশস্ত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পৌর করপোরেশন মসজিদের একটি অংশ অপসারণের নোটিশ দিয়েছিলো।
সবার দেশ/এমকেজে




























