Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:০৭, ১৯ জুন ২০২৬

শান্তিচুক্তির জন্য মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প: মোজতবা খামেনি

শান্তিচুক্তির জন্য মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প: মোজতবা খামেনি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সমঝোতা স্মারক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি। তিনি দাবি করেছেন, এ চুক্তির পেছনে ইরানের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ও তৎপরতাই বেশি ছিলো এবং চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে বেশি চাপ প্রয়োগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এক বার্তায় খামেনি বলেন, সমঝোতা স্মারকের বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছাতে ইরানি কর্মকর্তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে চুক্তি সম্পন্ন করতে সবচেয়ে বেশি উদ্যোগ, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং চাপ প্রয়োগ করেছে মার্কিন প্রশাসন।

তিনি বলেন, এ চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট সব ধরনের প্রভাব, চাপ ও কৌশল ব্যবহার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রই এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলো।

চুক্তি নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন খামেনি। তিনি জানান, শুরুতে এ বিষয়ে তার কিছু নীতিগত আপত্তি ছিলো। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট দেশের জনগণ এবং তথাকথিত ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত সমঝোতার অনুমোদন দেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করে বলেন, চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত কোনও শর্ত বা দাবি চাপিয়ে দিতে চাইলে তা গ্রহণ করবে না তেহরান।

তার ভাষায়, আমেরিকান পক্ষ যদি অতিরিক্ত দাবি উত্থাপন করে, তাহলে আমরা তার কাছে নতি স্বীকার করবো না।

নিজেকে দেশের ‘নগণ্য সেবক’ হিসেবে উল্লেখ করে খামেনি জনগণকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান এবং চুক্তির ঘোষিত শর্ত বাস্তবায়নের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন।

জি-৭ সম্মেলনের পর ফ্রান্সে চুক্তি

জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষে এমানুয়েল মাখোঁ আয়োজিত এক নৈশভোজে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদ-এ এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তির বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেয়া এক বার্তায় মাখোঁ বলেন, এ সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

যদিও আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে হওয়ার কথা ছিলো, তবু তেহরান জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী জেনেভা-য় পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

চুক্তিতে কী রয়েছে

‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামে পরিচিত এ চুক্তিতে লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

এছাড়া চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের অঙ্গীকার করেছে ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে, ইরান ৬০ দিনের জন্য অতিরিক্ত কোনও ফি ছাড়াই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ চুক্তির পথে ৬০ দিনের আলোচনা

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এখন উভয় পক্ষের সামনে পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার জন্য ৬০ দিনের সময় রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এ সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

হুমকি উপেক্ষা করে মধ্যরাতে উত্তাল চুয়েট
প্রেস ক্লাবের কমিটি, অনুমোদন দিলেন বিএনপির এমপি
রূপপুরে ইউরেনিয়াম জ্বালানি আসছে অক্টোবরে: রোসাটম
গোপনে আমিরাত সফর নেতানিয়াহুর, বৈঠকে ইরান
হাফ প্যান্ট পরে মেট্রোরেলে যাওয়ার কর্মসূচি, সাড়া ১৬০০ জনের
কাতারের এলএনজি বন্ধ, চাপে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান
বরেণ্য সাংবাদিক গাজীউল হাসান খানের জন্মদিন উদযাপন
রাড্ডা ক্লিনিক দখলকারীরাই এখন পরিষ্কার করছে: আসিফ মাহমুদ
আ.লীগের সাবেক এমপির বাসায় ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মী আটক
বাংলাদেশি পাটপণ্যে ভারতে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক
মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে, হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির
তরুণদের হৃদরোগ ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্য বাজেট বাড়ানোর আহ্বান
জামিন হয়নি এমপি নজরুলের, রিমান্ড শেষে কারাগারে
দুদকের প্রেস ব্রিফিং চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসিফের রিট
নির্বাচনী প্রার্থীদের ডোপ টেস্টে হাইকোর্টের রুল
চাঁদাবাজি ঠেকাতে ‘পুনর্বাসন দানবক্স’ চালুর ঘোষণা হাসনাতের