৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিইসির পদত্যাগ দাবি, ভারতজুড়ে আন্দোলনের হুমকি
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে ভারতজুড়ে নতুন করে আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন মুম্বাই থেকে আন্দোলন শুরু করে তা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেয়া হবে। একই সঙ্গে দিল্লিতে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচির হুমকিও দেয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যেই ককরোচ জনতা পার্টির এ ঘোষণা এলো। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একাধিক প্রশ্ন ও আপত্তি তোলা হয়েছিলো।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেয়া হচ্ছে এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় নির্বাচন কমিশন। সংস্থাটির বক্তব্য, কর্মকর্তাদের মধ্যে মতপার্থক্য কোনও প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক বিষয় এবং কমিশনের সব কার্যক্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।
ককরোচ জনতা পার্টি একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে আরও কয়েকটি দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি আসন্ন নির্বাচনগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা, এসআইআর প্রক্রিয়া থামানো এবং ভোটার তালিকা নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি তুলেছে।
এদিকে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলটি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছে। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং ভোটার তালিকা সংশোধনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের স্বাধীন পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে।
ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টি এর আগে বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করেছে। চলতি বছর তরুণদের মধ্যে গড়ে ওঠা এ আন্দোলন পরে বৃহত্তর রাজনৈতিক চাপ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।
বর্তমান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক। এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























