Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:০৬, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আনুগত্য ও শপথের সাংবিধানিক বৈধতা খতিয়ে দেখার দাবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব যাচাইয়ে আইনি নোটিশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব যাচাইয়ে আইনি নোটিশ
ছবি: সংগৃহীত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের বিদেশি নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং তাদের নিয়োগ ও শপথ গ্রহণের সাংবিধানিক বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়া মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এ নোটিশ পাঠান।

আইনজীবী আসলাম মিয়া জানিয়েছেন, সাত দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব না পাওয়া গেলে হাইকোর্টে রিটসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রতিকার চাওয়া হবে।

নোটিশে সংবিধানের ৫৬, ৬৬ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফসিলের আলোকে দুই মন্ত্রীর নিয়োগ, যোগ্যতা, নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং শপথের সাংবিধানিক বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে সংবিধানের ৬৬(১) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিক এবং ২৫ বছর বয়স পূর্ণ হয়েছে—এমন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য।

একই সঙ্গে ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদের আলোকে কোনও ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে অথবা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার বা স্বীকৃতি দিলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বা পদে থাকার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক অযোগ্যতার প্রশ্ন উঠতে পারে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সংবিধানের ৬৬(২)(এ)-তে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক কোনো ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে তা ত্যাগের পর তার সাংবিধানিক অবস্থান সম্পর্কেও বিশেষ বিধান রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির নাগরিকত্বের ইতিহাস এবং বর্তমান আইনগত অবস্থান যাচাই করা প্রয়োজন বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের ক্ষেত্রে তার বর্তমান নাগরিকত্বের অবস্থা, অতীতে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন কি না, বিদেশি পাসপোর্ট ধারণ করেছেন বা করছেন কি না এবং কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ঘোষণা দিয়েছেন কি না—এসব তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করে থাকলে তা কবে গ্রহণ করেছেন এবং কবে তা পরিত্যাগ করেছেন—সে তথ্যও পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।

একই ধরনের যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের ক্ষেত্রেও।

নোটিশে দুই ব্যক্তির নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট, অভিবাসন, জাতীয়তা এবং নাগরিকত্ব গ্রহণ বা ত্যাগসংক্রান্ত রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ ও পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দুই মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও নোটিশে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তৃতীয় তফসিলে উল্লিখিত পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিকে দায়িত্ব গ্রহণের আগে নির্ধারিত শপথ বা ঘোষণা করতে হয়। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর শপথে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য এবং সংবিধান সংরক্ষণ, রক্ষা ও প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার রয়েছে।

নোটিশে দাবি করা হয়েছে, এ সাংবিধানিক শর্তের সঙ্গে দুই মন্ত্রীর নাগরিকত্ব ও বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

নোটিশে বলা হয়েছে, ড. খলিলুর রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তার নিয়োগ ও দায়িত্ব গ্রহণের সময় সাংবিধানিক যোগ্যতা ও শর্তগুলো পূরণ করা হয়েছিলো কি না, তা পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে।

একইভাবে হুমায়ুন কবিরের নিয়োগ ও দায়িত্ব গ্রহণও সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, যাচাইয়ের পর যদি কোনও সাংবিধানিক অযোগ্যতা পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্যদিকে যাচাইয়ে কোনও অযোগ্যতা পাওয়া না গেলে তাদের নিয়োগ ও দায়িত্বে বহাল থাকার সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তিও স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ নোটিশদাতা সরাসরি দুই মন্ত্রীকে বিদেশি নাগরিক বা সাংবিধানিকভাবে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি করেননি; বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আইনজীবী আসলাম মিয়া জানিয়েছেন, তার পাঠানো নোটিশকে দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও চূড়ান্ত অভিযোগ বা সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং সাংবিধানিক যোগ্যতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করাই নোটিশের মূল উদ্দেশ্য।

সাত দিনের মধ্যে বিষয়টির নিষ্পত্তি না হলে কিংবা সাংবিধানিক প্রশ্নগুলো অনিষ্পন্ন থাকলে সংবিধান ও আইনে বিদ্যমান প্রতিকার পেতে উপযুক্ত বিচারিক বা সাংবিধানিক ফোরামে যাওয়ার কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সবার দেশ/এমকেজে

শীর্ষ সংবাদ:

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব যাচাইয়ে আইনি নোটিশ
অর্ধেকেরও কম খরচে চীনের জে-১০ নিচ্ছে বাংলাদেশ
মব অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে এসেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মেসির বিদায়ে আবেগঘন আন্তোনেলা
লঘুচাপের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, ৩ নম্বর সতর্কসংকেত
কানাডার পার্লামেন্টের এমপি বাংলাদেশি তানভীর
ভারতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ১১; রেল চলাচল বন্ধ
নভেম্বরে যোগ হবে রূপপুরের বিদ্যুৎ!
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধে মার্কিন সেনাপ্রধানের পদত্যাগ
ফিল্মি কায়দায় নববধূ ‘ছিনতাই’! যা বললেন কনে তামান্না
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, সামনে ১০ চ্যালেঞ্জ
ঢাবির মেয়েদের হল বন্ধ রাত ১১টায়
নবম পে-স্কেল অনুমোদন: কার বেতন কত
নেপালে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৯১৯, নিখোঁজ ৪ হাজারের বেশি
জামালপুরে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ৪
ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর
শিল্প কোনও পাপ নয়: প্রভা
মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্সের আনুষ্ঠানিক যাত্রা
দেশে প্রথম রোবটিক সার্জারি, প্রথম দিনে ২ রোগীর অস্ত্রোপচার
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে গুডবাই বললেন মেসি
পূজার আগেই পাকিস্তানের হামলার প্রস্তুতিতে শঙ্কিত ভারত