Sobar Desh | সবার দেশ রংপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:১৩, ২৫ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ০১:১৪, ২৫ আগস্ট ২০২৬

রংপুরে চার খুন, , তদন্তে ৩ দিনের আলটিমেটাম

ময়নাতদন্তে চারজনকেই শ্বাসরোধের আলামত

ময়নাতদন্তে চারজনকেই শ্বাসরোধের আলামত
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় গ্রেফতা দুই যুবক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তাদের স্বীকারোক্তির পরও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের দেয়া ঘটনার বর্ণনার সঙ্গে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক তথ্যের কিছু পার্থক্য সামনে আসায় প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে আরও গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, চারজনের শরীরেই শ্বাসরোধের আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মুখমণ্ডলে এসিড বা অন্য কোনও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। চোয়াল ভেঙে দেয়ার বিষয়টিও ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রোববার বিকেল ৫টার দিকে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তারা। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুজন নিজেদের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়ায় তাদের আর রিমান্ডে নেয়ার প্রয়োজন হয়নি।

তবে আদালতে আসামিরা কী বলেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ। ফলে তাদের স্বীকারোক্তির সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—এখন তদন্তে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ময়নাতদন্তে যা পাওয়া গেলো

চার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানান, চারজনের শরীরেই শ্বাসরোধের আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, লাশ কয়েক দিন পড়ে থাকায় পচনের কারণে মুখমণ্ডলে বিকৃতি দেখা দিয়েছে। তবে মুখে এসিড বা অন্য কোনও রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া চোয়াল ভেঙে দেয়ার বিষয়টিও ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হয়নি। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত মতামত দিতে লাশ থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা সিআইডির ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

ফরেনসিক বিভাগের এ তথ্য হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ, লাশের মুখমণ্ডল বিকৃত হওয়াকে কেন্দ্র করে এসিড বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের আলোচনা থাকলেও ময়নাতদন্তে এখন পর্যন্ত তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্বীকারোক্তির পরও বিক্ষোভ

দুই আসামির গ্রেফতার এবং আদালতে স্বীকারোক্তির খবরের মধ্যেই সোমবার রংপুরে বিক্ষোভ করেছেন জিলা স্কুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, দুজনকে গ্রেফতার ও আদালতে জবানবন্দি দেয়াকে কেন্দ্র করে তদন্ত শেষ করে দেয়া যাবে না। হত্যাকাণ্ডের পেছনের পুরো রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে।

দুপুরে রংপুর জিলা স্কুলের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে শোক মিছিল বের করে নগরীর কাচারিবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন তারা। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশের দেয়া হত্যাকাণ্ডের বর্ণনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে বাড়ির সিসিটিভির তার ও বৈদ্যুতিক তার কাটা হলো কীভাবে, চারজনকে হত্যার সময় আশপাশের কেউ কোনো শব্দ শুনলেন না কেন এবং হত্যার পর ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখার কারণ কী—এসব বিষয় গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবিতে প্রশাসনকে তিন দিনের সময়সীমা দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাফিয়ার রহমান বলেন, গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের হত্যার ঘটনায় নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। এ নাটক থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে। তারা সত্য জানতে চান।

সাবেক শিক্ষার্থী চৌধুরী মাহমুদুন নবী ডলার বলেন, হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বাড়ির সিসিটিভি ও বৈদ্যুতিক তার কে কাটল, চারজনকে হত্যার সময় আশপাশের কেউ কেন টের পেলো না—এমন অনেক প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয় ভালোভাবে তদন্ত না করে শুধু দুজনকে গ্রেফতার করে তারাই হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে দেয়া হলে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সোমবার বিকেলে রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চারজনের হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে মহানগর নাগরিক কমিটি। কর্মসূচি থেকে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের বিচারের দাবি জানানো হয়।

চার চিতায় শেষ বিদায়

রোববার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে চারজনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রংপুর নগরীর দখিগঞ্জ মহাশ্মশানে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

একই সময়ে পাশাপাশি চারটি চিতায় তোলা হয় গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী ও ছেলে আয়ুশের লাশ। স্বজনদের কান্নায় সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

গণপতি চক্রবর্তীর দুই বড় ভাই গোপাল চক্রবর্তী ও গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, তাদের ছোট ভাই গণপতি ছিলেন অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপনের মানুষ। কারও সঙ্গে তার কোনও শত্রুতা ছিলো না। এরপরও তাকে এমন নির্মম পরিণতির শিকার হতে হয়েছে। তারা হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

গ্রেফতার দুই যুবকের স্বীকারোক্তির পর মামলার তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কী তথ্য আসে—এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিও জোরালো হচ্ছে।

সবার দেশ/কেএম

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

কোথায় কত ঘুষ, জানাবে ‘ঘুষসাইট’
ময়নাতদন্তে চারজনকেই শ্বাসরোধের আলামত
‘হ্যাঁ অথবা না বলুন’—পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে হাসনাত
ইয়াবাসহ পল্লবী থানার এএসআই গ্রেফতার
বাবার লাশ ফেলে কবরের জায়গা নিয়ে দুই ভাইয়ের সংঘর্ষ
৪৫ তেলবাহী ট্যাংকার কালো তালিকাভুক্ত করলো ইরান
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে চীনা রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
স্থানীয় নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেই কঠোর ব্যবস্থা: রিজভী
এক রাতেই মতিঝিল আইডিয়ালের ৪৬ শিক্ষক বদলি
ফের দিল্লির রাজপথে সিজেপি
মার্কিন প্রতিনিধিদল মোবাইলের আলোয় দেখলেন জুলাই জাদুঘর
সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
১৮০ দিনের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে: নাহিদ ইসলাম
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে নামলে শত্রু ভাববে ইরান
অর্থ কমিটির বৈঠক অকার্যকর করার অভিযোগ হাসনাতের
হরমুজে ভাঙলো মার্কিন শক্তির দম্ভ
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে খরচ
প্রতিশোধ নয়, আত্মসম্মানের লড়াই ছিলো: কামিন্স
মেঘনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে কুপিয়ে জখম
ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার
লংমার্চে বাধা এলে প্রতিহত করার ঘোষণা ১১ দলের