গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন
এক রাতেই মতিঝিল আইডিয়ালের ৪৬ শিক্ষক বদলি
রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল শাখা থেকে একসঙ্গে ৪৬ শিক্ষককে বনশ্রী ও মুগদা শাখায় বদলি করা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) মধ্যরাতে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সম্মতিক্রমে এসব শিক্ষককে বদলির আদেশ দেয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ এ সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির মূল উৎপাটন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, বদলি হওয়া ৪৬ শিক্ষকের অনেকেই গত পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে টানা মতিঝিলের মূল শাখায় কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন একই শাখায় দায়িত্ব পালনের পর তাদের বনশ্রী ও মুগদা শাখায় পাঠানো হয়েছে।
একাধিক শিক্ষক জানান, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ করেই ৪৬ শিক্ষককে বদলির আদেশ জারি করা হয়। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে অনেক শিক্ষক বিস্মিত হন। বদলি হওয়া শিক্ষকদের একটি অংশ সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে গিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বলেও জানা গেছে।
বদলি হওয়া শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বদলির তথ্য প্রকাশের আগেই অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী এক ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করেন। ফলে বদলি আদেশের তথ্য কীভাবে আগে থেকেই বাইরে চলে গেলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
শিক্ষকদের দাবি, কোনও সিদ্ধান্ত গোপনীয়ভাবে নেয়া হলে সেটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া স্বাভাবিক নয়। এ ঘটনায় বদলি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে বদলির সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন একই শাখায় কর্মরত শিক্ষকদের অন্য শাখায় দায়িত্ব দেয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমে ভারসাম্য আনার পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মোট তিনটি শাখা রয়েছে। এগুলো হলো—মতিঝিলের মূল শাখা, বনশ্রী শাখা ও মুগদা শাখা। তিনটি শাখায় প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ৭০০ জন। এ ছাড়া কর্মচারীর সংখ্যা দুই শতাধিক।
একসঙ্গে ৪৬ শিক্ষককে বদলির এ সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে নেয়া এ পদক্ষেপ ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলে, সেটিও এখন নজরে রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























