বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ছাড়ালো ১০৩ ডলার
বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ১৪ ডলার বা ১ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৭৩ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্যবহৃত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৩৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ৭২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তেলের বাজারে সাম্প্রতিক এ ঊর্ধ্বগতির পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অনিশ্চয়তাকে দেখা হচ্ছে। ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদক দেশ। দেশটির তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ বাড়ার খবরে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছিলো। তবে এক দিনের ব্যবধানেই বাজার আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
চলতি মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ বাড়ার পথে রয়েছে। এ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে গত জুলাইয়ের পর চলতি মাসেই ব্রেন্টের সবচেয়ে বড় মাসিক মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে।
অন্যদিকে, চলতি মাসে ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বাড়ার পথে রয়েছে। এর আগে মে মাসের পর প্রথমবারের মতো ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাও বাজারে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলো।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, ইরানের তেল রফতানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতিই আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। বিপরীতে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারে ঊর্ধ্বগতির চাপ কিছুটা কমে আসতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপরও এর প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে দীর্ঘ সময় তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে।
সবার দেশ/এমকেজে




























