ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে ইতালি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরাকে অবস্থানরত সেনাদের একটি অংশ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে ইতালি। ইরাকি কুর্দিস্তানের এরবিল অঞ্চলে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
বিদেশি গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, এরবিলের ক্যাম্প সিঙ্গারা বিমানঘাঁটিতে রাতভর ড্রোন হামলা চালানো হয়। এ ঘাঁটিতে ন্যাটোর প্রায় ৩০০ সেনা সদস্য অবস্থান করছিলেন। হামলায় একটি রেস্তোরাঁ এবং দুটি সামরিক যানবাহন ধ্বংস হয়েছে। তবে এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় ইতালি ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ সেনাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। বাকি সেনাদেরও ধাপে ধাপে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেটো বলেছেন, ক্যাম্প সিঙ্গারায় হামলাটি উদ্দেশ্যমূলক ছিলো। কারণ ওই ঘাঁটিতে ইতালীয় সেনারা কুর্দি পেশমার্গা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে সেখানে অবস্থান করছিলেন।
তিনি বলেন, এটি ন্যাটোর একটি ঘাঁটি এবং একই সঙ্গে এটি একটি মার্কিন ঘাঁটিও। যদিও হামলার জন্য সরাসরি কোনও পক্ষকে দায়ী করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর কেউ এ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
ক্রোসেটো জানান, ঘাঁটিতে থাকা মোট ১৪১ জন ইতালীয় সেনার মধ্যে ইতোমধ্যে ১০২ জনকে ইতালিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাকি প্রায় ৪০ জনকে জর্ডানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেছেন, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনটি কোথা থেকে এসেছে তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে তদন্ত চলছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি হামলার পর সেনাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, হামলার মধ্যেও তারা অক্ষত আছেন, যা স্বস্তির বিষয়।
ঘাঁটির কমান্ডার কর্নেল স্টেফানো পিজোত্তি জানান, হামলার আগে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিলো। ফলে সেনারা কয়েক ঘণ্টা আগেই বাংকারে আশ্রয় নেন এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সেনারা প্রশিক্ষিত এবং তাদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এদিকে কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিদেশি কূটনৈতিক মিশন ও জোট বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইরাকি সরকারের দায়িত্ব। একই সঙ্গে অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করতে না দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়ার কোনও ইচ্ছা ইতালির নেই। যদিও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত, তবুও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি সেগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে ইতালি উপসাগরীয় দেশগুলোকে বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি এ সপ্তাহের শুরুতে একটি ইতালীয় যুদ্ধজাহাজ সাইপ্রাসে পাঠানো হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইতালি ও ফ্রান্স ইতোমধ্যে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তি নিয়েও আলোচনা শুরু করেছে। এর লক্ষ্য হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।
সূত্র: ডেইলি মেইল
সবার দেশ/কেএম




























