Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:১১, ১৮ মার্চ ২০২৬

প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে যোগ দিলো নাইজেরিয়া

আর্কটিকের বরফে ‘ইতিহাসের ভাণ্ডার’

আর্কটিকের বরফে ‘ইতিহাসের ভাণ্ডার’
পরিত্যক্ত কয়লাখনিতে অবস্থিত এই ভল্টেই সারা বিশ্বের ডেটা সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

উত্তর মেরুর কাছাকাছি বরফে ঘেরা দ্বীপপুঞ্জ ভালবার্ড—যেখানে সাধারণত নীরবতা, অন্ধকার আর তুষারের রাজত্ব—সেখানেই এবার জায়গা করে নিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়া-এর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের গল্প।

‘বিশ্বের স্মৃতি’ সংরক্ষণের লক্ষ্যে আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত আর্কটিক ওয়ার্ল্ড আর্কাইভ-এ নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ দলিল জমা দিয়েছে নাইজেরিয়া। এর মাধ্যমে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে এ বৈশ্বিক সংরক্ষণ উদ্যোগে যুক্ত হলো দেশটি।

ভালবার্ডের একটি পরিত্যক্ত কয়লাখনির প্রায় ৩০০ মিটার গভীরে তৈরি এ সংরক্ষণাগারটি এমনভাবে নির্মিত, যেখানে চরম ঠান্ডা, শুষ্কতা ও অন্ধকার দীর্ঘমেয়াদি তথ্য সংরক্ষণের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। এখানে বিশেষ ধরনের Piql ফিল্মে তথ্য সংরক্ষণ করা হয়, যার স্থায়িত্ব প্রায় দুই হাজার বছর পর্যন্ত।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নাইজেরিয়া তাদের সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক দলিল এ আর্কাইভে জমা দেয়। দেশটির ১২টি প্রতিষ্ঠান—যার মধ্যে রয়েছে জাদুঘর, লাইব্রেরি, আর্ট গ্যালারি ও গবেষণা সংস্থা—এ উদ্যোগে অংশ নেয়।

এ প্রকল্পের অনুপ্রেরণা এসেছে কাছেই অবস্থিত ভালবার্ড গ্লোবাল সিড ভল্ট থেকে, যেখানে ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১০ লাখের বেশি বীজ সংরক্ষিত রয়েছে। একইভাবে, আর্কটিক ওয়ার্ল্ড আর্কাইভে সংরক্ষণ করা হচ্ছে মানবজাতির জ্ঞান, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার নিদর্শন—যাকে বলা হচ্ছে ‘বিশ্বের স্মৃতি’।

২০১৭ সালে নরওয়ের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে চালু হওয়া এ আর্কাইভে বর্তমানে ৩৭টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংরক্ষণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভ্যাটিকান লাইব্রেরি এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি-এর মতো বিশ্বখ্যাত সংস্থা। সংরক্ষিত উপাদানের তালিকায় যেমন আছেন সুরকার ফ্রেডেরিক চোপিন-এর পাণ্ডুলিপি, তেমনি রয়েছে বিলীনপ্রায় দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে কাজ করা আলোকচিত্রীর গুরুত্বপূর্ণ কাজও।

নাইজেরিয়ার এ উদ্যোগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ইতিহাসবিদ এমেকা কিজোর, যিনি ২০২২ সালে Piql-এর আফ্রিকা শাখার দায়িত্ব নেয়ার পর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।

তবে এ পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে একটি বাস্তব সংকটও। আফ্রিকার অনেক দেশের মতো নাইজেরিয়াতেও পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে লাইব্রেরি ও আর্কাইভগুলো ঝুঁকির মুখে। গবেষক চিমা কোরিয়েহ জানান, ১৯৬০ সালের পর থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি হারিয়ে গেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল তথ্যের অনিশ্চয়তা। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইন্টারনেটের প্রায় ৩৮ শতাংশ ওয়েবপেজ হারিয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ সংরক্ষণের জন্য আর্কটিক ওয়ার্ল্ড আর্কাইভ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

যদিও Piql ফিল্মে তথ্য সংরক্ষণ ব্যয়বহুল—প্রতি রিলে প্রায় ৯ হাজার ইউরো—তবুও ২০২৫ সালে এ আর্কাইভকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়েছে, যাতে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশ ও প্রতিষ্ঠানও এ সুবিধা নিতে পারে। ইতোমধ্যে ইউনেসকো-র সঙ্গে যৌথভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু তথ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নয়; বরং একটি জাতির নিজস্ব ইতিহাস, পরিচয় ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ রাখার এক দীর্ঘমেয়াদি কৌশল।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পিরোজপুরে গর্ত খুঁড়তে গিয়ে মাটি ধসে ২ শ্রমিকের মৃত্যু
দর্শনা সীমান্তে ‘পুশইন’, নারী ও শিশুসহ আটক ১০
লক্ষ্মীপুরে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা
প্রেমের টানে টাঙ্গাইলে চীনা স্কুলশিক্ষক
যুক্তরাষ্ট্রে রাসায়নিক ট্যাংক বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ১১
৪০০ টাকায় কেনা চামড়া বিক্রি ১৫০ টাকায়
মে মাসে মব সহিংসতায় সর্বোচ্চ ৩২ মৃত্যু: এমএসএফ
প্রাণনাশের শঙ্কায় ঈদে বাড়ি যাননি এনসিপি নেত্রী বর্ষা
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
জ্বালানি তেলের নতুন দাম, লিটারপ্রতি বাড়লো ৫ টাকা
জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক: মির্জা ফখরুল
দুঃসংবাদ পিছু ছাড়ছেনা জ্যাকলিনের!
সামনে চ্যালেঞ্জিং সময়, দায়িত্বশীল না হলে দেশের ক্ষতি হবে: প্রধানমন্ত্রী
পিএসজির শিরোপা উদযাপন ঘিরে ফ্রান্সজুড়ে তাণ্ডব
জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের ঠাঁই হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দিল্লিতে পাঁচতলা ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপের নিচে শতাধিক শিক্ষার্থী