ঐক্যের বার্তা খামেনির, পাকিস্তান–আফগানিস্তান সংকটে মধ্যস্থতার প্রস্তাব
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি জাতির উদ্দেশে দেয়া এক বার্তায় জাতীয় ঐক্যকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার বিরোধে মধ্যস্থতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বার্তায় তিনি বলেন, দেশের জনগণের ঐক্যই শত্রুকে পিছু হটতে বাধ্য করবে। রোজা পালন ও ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ইরানের জনগণ যে দৃঢ় মনোবল দেখিয়েছে, তা প্রতিপক্ষকে ইতোমধ্যে দুর্বল করে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
খামেনি অভিযোগ করেন, ইরানের বিরোধীরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করছে। বিশেষভাবে পাকিস্তান-এর সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, পাকিস্তান ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান-এর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে ইরান মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংলাপ সহজ করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
বার্তায় খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের বাহ্যিক প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইরানি জনগণের ঐক্যই এসব শক্তির পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের সম্মিলিত শক্তি ও অভ্যন্তরীণ সংহতিই দেশের প্রতিরক্ষা ও নীতিনির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্য শুধু অভ্যন্তরীণ ঐক্যের বার্তাই নয়, বরং আঞ্চলিক কূটনীতিতে ইরানের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিতও বহন করছে, যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের কৌশল স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সবার দেশ/কেএম




























