ভারত মহাসাগরে ব্রিটিশ–মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবার ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে আরও বিস্তৃত ভূখণ্ডে। ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দিয়াগো গার্সিয়াতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগের মুখে ফেলেছে।
মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান অন্তত দুটি মধ্যমপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ওই ঘাঁটির দিকে নিক্ষেপ করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থায় সেটি ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভারত মহাসাগরের মাঝামাঝি, বিষুবরেখার দক্ষিণে অবস্থিত দিয়াগো গার্সিয়া দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখান থেকে দূরবর্তী অঞ্চলে বিমান ও নৌ অভিযান পরিচালনা করা হয়, বিশেষ করে ভারী বোমারু বিমানের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানতে হোয়াইট হাউস, ওয়াশিংটনে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস এবং যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে CNN-ও এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, দিয়াগো গার্সিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখান থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, এ হামলার দাবি সত্য হলে তা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করবে। কারণ, ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যা দেশটির ঘোষিত সক্ষমতার চেয়েও বেশি পাল্লার ইঙ্গিত দেয়।
উল্লেখ্য, গত মাসে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছিলেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ইচ্ছাকৃতভাবে ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এ ঘটনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা জোরদার হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বৈশ্বিক নিরাপত্তা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান
সবার দেশ/কেএম




























