সিএনএনের প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা ‘গেম অব চিকেন’: বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা এখন এক বিপজ্জনক স্নায়ুযুদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছেছে। কূটনৈতিক সমঝোতার সব পথ আপাতত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই দেশ এমন এক সংঘাতময় অবস্থানে দাঁড়িয়েছে, যাকে বিশ্লেষকেরা বলছেন ‘গেম অব চিকেন’—যেখানে কেউই আগে পিছু হটতে চাইছে না, অথচ সংঘর্ষের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।
গত রোববার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার বৈঠকেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনও সমঝোতা হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের আলোচনায় প্রধান অচলাবস্থা তৈরি হয় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে। বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রধান বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধের নির্দেশ দেন, যা সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এ অবরোধের আওতায় ইরানের বন্দরগামী ও বন্দরত্যাগী সব জাহাজকে তল্লাশি ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ইতোমধ্যে অন্তত ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে অ-ইরানি বন্দরের মধ্যে চলাচলকারী জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।
বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব ইতোমধ্যেই স্পষ্ট। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। অবরোধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ, এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রেও মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে।
সামরিক দিক থেকেও পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সন্দেহভাজন ইরানি তেলবাহী জাহাজ আটকাতে, আর প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করতে। জবাবে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের জলসীমায় কোনও আগ্রাসী পদক্ষেপ নিলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজও নিরাপদ থাকবে না। পারস্য উপসাগরে ইরানের মাইন, দ্রুতগামী নৌযান ও ড্রোন মোতায়েনের সম্ভাবনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কোনও পক্ষই আপসকে দুর্বলতা হিসেবে দেখাতে চায় না। কিন্তু এ ‘গেম অব চিকেন’-এ ভুল হিসাব বা সামান্য উসকানিও পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে সামরিক পথ থেকে সরে এসে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বাস্তবতা বলছে, আপাতত কেউই ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। ফলে প্রশ্ন এখন একটাই—কে আগে পিছু হটবে, আর ততদিনে বিশ্ব অর্থনীতি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সবার দেশ/কেএম




























