হরমুজ ইস্যুতে ‘রেড লাইন’ সতর্কবার্তা দিলো বেইজিং
ইরানকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্পকে কড়া বার্তা চীনের
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়ার পর প্রকাশ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। বেইজিং স্পষ্ট করে বলেছে, হরমুজে কোনো একতরফা অবরোধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যাবে।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যাডমিরাল ডং জুন এক বিশেষ বার্তায় জানিয়েছেন, বেইজিং পরিস্থিতির ওপর ‘ঘনিষ্ঠ নজর’ রাখছে এবং চীনা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনও বাধা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী চীনের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ এবং ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান জ্বালানি চুক্তি বাস্তবায়নে চীন অঙ্গীকারবদ্ধ।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ জলপথে মার্কিন অবরোধ কার্যকর হলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগবে এশিয়ার জ্বালানি বাজারে, বিশেষ করে চীনে। ইতোমধ্যে চীন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ ‘আন্তর্জাতিক স্বার্থবিরোধী’ এবং উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
গতকাল মার্কিন প্রশাসন ঘোষণা দেয়, ইরানের সঙ্গে ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র হরমুজে অবরোধ শুরু করবে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান অবৈধভাবে জাহাজ থেকে টোল আদায় করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তা বন্ধ করবে। এর জবাবে ইরান বলেছে, মার্কিন নৌ-অভিযানকে তারা যুদ্ধঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করবে।
এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সন্দেহ—চীন ইরানকে নতুন করে উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে। যদিও ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, সংঘাতরত কোনও পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করা চীনের নীতি নয়।
সম্প্রতি ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, যুদ্ধবিমানটি হিট-সিকিং ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে ইরান দাবি করেছে, এটি তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-চীন-রাশিয়া ঘনিষ্ঠতার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের এ সামরিক চাপ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তির মেরুকরণ তৈরি করছে। হরমুজ এখন শুধু একটি সামুদ্রিক রুট নয়—এটি হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক শক্তির নতুন সংঘর্ষমঞ্চ।
বেইজিংয়ের বার্তা স্পষ্ট: হরমুজে মার্কিন একতরফা সামরিক আধিপত্য চীন মেনে নেবে না। ফলে এ সংকট শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন সরাসরি পরাশক্তিদের মুখোমুখি অবস্থানের দিকে এগোচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























