জাটকা রক্ষায় কঠোর নজরদারি, জেলেদের জন্য ১৬০ কেজি চাল
মধ্যরাত থেকে চাঁদপুরে দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনা নদীর নির্ধারিত এলাকায় মার্চ ও এপ্রিল—টানা দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। শনিবার রাত ১২টার পর থেকেই এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
প্রশাসন জানিয়েছে, এ সময়ে মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এবং হাইমচর উপজেলার চরভেরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় জাল ফেলা, মাছ ধরা, মজুদ ও পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এমনকি নিষিদ্ধ এলাকায় বরফকলও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে জেলার নিবন্ধিত ৩৯ হাজার ৪০০ জেলেকে চার কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেয়া হবে। তবে কেউ আইন অমান্য করে নদীতে মাছ ধরতে গেলে মৎস্য আইনে কমপক্ষে এক থেকে দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানান, জাটকা ইলিশ রক্ষায় পদ্মা-মেঘনায় সব ধরনের মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এ সময়ে জেলেদের জন্য চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অসাধু জেলেরা যাতে নদীতে নামতে না পারে, সে জন্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটর ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, শুধু প্রশাসনিক তৎপরতা দিয়ে ইলিশ উৎপাদন টেকসইভাবে বাড়ানো সম্ভব নয়। জেলেদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে নিষেধাজ্ঞার সুফল দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া কঠিন হবে।
চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা দুই মাস নদীতে নিয়মিত টহল থাকবে। কেউ জাটকা নিধনে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সবার দেশ/কেএম




























